ক্যানসার জয় করে যাঁরা নতুন জীবন পেয়েছেন, তাঁদের জন্য হজ হতে পারে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অসাধারণ সুযোগ। তবে এই পবিত্র যাত্রা শুরুর আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
শারীরিক অবস্থা যাচাই
প্রথমেই নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি ক্যানসারের চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ হয়ে থাকে এবং বর্তমানে আপনি সুস্থ থাকেন, তাহলে হজে যাওয়া নিরাপদ। তবে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি চলমান থাকলে তাড়াহুড়া না করে কিছুদিন অপেক্ষা করাই ভালো। হজে যাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি
হজ পালনের সময় অনেক হাঁটাহাঁটি করতে হয়, ভিড়ের মধ্যে থাকতে হয় এবং আবহাওয়া থাকে খুব গরম। তাই আগে থেকেই নিজের সক্ষমতা বুঝে পরিকল্পনা করা দরকার। প্রয়োজনে ধীরে ধীরে কাজগুলো সম্পন্ন করুন, বারবার বিশ্রাম নিন এবং হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে পারেন। মানসিক প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; মনে রাখবেন, হজ একটি আধ্যাত্মিক যাত্রা, যেখানে ধৈর্য ও দৃঢ়তা কাজে লাগে।
সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা
হজে লাখ লাখ মানুষের ভিড় হয়, তাই সর্দি-কাশি বা ফ্লু সহজেই ছড়ায়। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। যেমন বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন, বারবার হাত ধুয়ে নিন বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকুন।
ওষুধ ও জরুরি প্রস্তুতি
নিয়মিত যে ওষুধ খান, তা পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে নিন। প্রেসক্রিপশন এবং রোগের একটি ছোট ইংরেজি বিবরণ রাখলে জরুরি সময়ে সুবিধা হবে। গরমের কারণে শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে পারে, তাই বেশি বেশি পানি পান করুন এবং রোদে বের হলে ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করুন। ক্লান্ত লাগলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নিন।
শেষ কথা
ক্যানসার জয় করে যাঁরা নতুন জীবন পেয়েছেন, তাঁদের জন্য হজ হতে পারে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অসাধারণ সুযোগ। সঠিক প্রস্তুতি, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে এই পবিত্র যাত্রা নিরাপদ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।



