হজ শেষে স্বাস্থ্যসচেতনতা: কেন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি
হজ শেষে স্বাস্থ্যসচেতনতা: চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি কেন

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ প্রতিবছর সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করেন। দীর্ঘ ভ্রমণ, শারীরিক পরিশ্রম, ভিড়, গরম আবহাওয়া ও সংক্রমণের ঝুঁকি—সব মিলিয়ে হজ শেষে শরীরের ওপর অনেক প্রভাব পড়ে। তাই হজ শেষে একজন হাজির জন্য সঠিক স্বাস্থ্যসচেতনতা ও চিকিৎসকের কাছে ফলোআপ ভিজিট গুরুত্বপূর্ণ।

কেন চিকিৎসক দেখানো জরুরি

হজ শেষে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ক্লান্তি ও দুর্বলতা, জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যা, পেশিব্যথা, ঘুমের সমস্যা, ত্বকের সমস্যা বা সংক্রমণ। তাই হজ শেষে খানিক বিশ্রাম নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। কারণ—সংক্রমণ শনাক্ত করা, দীর্ঘমেয়াদি রোগের অবস্থা মূল্যায়ন, নতুন কোনো রোগ হয়েছে কি না তা জানা, ক্লান্তি বা পানিশূন্যতার প্রভাব নির্ণয়, টিকা বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ওষুধ সমন্বয় করা।

হজ শেষে স্বাস্থ্যসচেতনতা

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া: হজ থেকে ফিরে প্রথম কাজ হওয়া উচিত শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া। এই সময় প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম, হালকা কাজ ও অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়ানো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পানি ও পুষ্টি গ্রহণ: পর্যাপ্ত পানি পান করুন ও প্রয়োজনে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) ব্যবহার করুন। সুষম খাবার, ফল ও শাকসবজি বেশি খান।

সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা: হাত পরিষ্কার রাখা, প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার ও ভিড় এড়িয়ে চলা উচিত।

ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ: যাঁরা আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত, তাঁরা ওষুধ বন্ধ করবেন না এবং নিয়মিত ডোজ অনুসরণ করুন।

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি

চিকিৎসকের কাছে সঠিক তথ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজের সমস্যা ও ওষুধের তালিকা সঙ্গে লিখে নিন। হজের সময় কোথায় ছিলেন, কখন ফিরেছেন বা কোনো অসুস্থতা হয়েছিল কি না ইত্যাদি জানান। আগের রোগের ইতিহাস বলুন। হজের আগে যেসব টিকা দেওয়া হয়েছিল, তা উল্লেখ করুন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডায়াবেটিক রোগীর জন্য বিশেষ নির্দেশনা

হজের পরে ডায়াবেটিক রোগীদের বিশেষ সতর্কতায় করণীয়—সুগার পরীক্ষা করা, ইনসুলিন বা ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ, পানিশূন্যতা এড়ানো, রক্তচাপ মাপা ও বিশেষ করে পায়ের সমস্যা থেকে সতর্ক থাকা।

হজ শেষে হঠাৎ কাজের চাপ না নিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে। পরিবারের সমর্থন ও বিশ্রাম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বয়স্কদের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা জরুরি।

ডা. নাজমা আক্তার, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগ, মার্কস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা