ডারউইনের তত্ত্বের সিলমোহর: নারীর মুখই বেশি আকর্ষণীয়
ডারউইনের তত্ত্বের সিলমোহর: নারীর মুখ বেশি আকর্ষণীয়

ডারউইনের তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

১৮৭১ সালে চার্লস ডারউইন তার ‘দ্য ডিসেন্ট অব ম্যান’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলেন, প্রাণিজগতের অন্যান্য প্রজাতির মতো নয়, বরং মানুষের ক্ষেত্রে নারীরাই বেশি রূপসী ও অলঙ্কারিক। তবে ডারউইনের এই দাবির পেছনে তখন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা উপাত্ত ছিল না। দীর্ঘ দেড় শতাব্দী পর ডারউইনের সেই তত্ত্বেরই যেন বৈজ্ঞানিক সিলমোহর মিললো।

গবেষণার পদ্ধতি ও ফলাফল

রয়্যাল সোসাইটির সাময়িকী ‘প্রোসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি’-তে প্রকাশিত ‘দ্য জেন্ডার অ্যাট্রাকটিভনেস গ্যাপ’ শীর্ষক এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে সব সংস্কৃতিতেই পুরুষের তুলনায় নারীদের মুখমণ্ডল বেশি আকর্ষণীয়। গবেষণার প্রধান লেখক ইউজেন ওয়াসিলিভিটস্কি এবং তার দল বিশ্বের ৭৬টি দেশের ৫২টি সমীক্ষা বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশাল ডেটাবেজে ছিল ১৭ হাজার মানুষের মুখের ছবি, যা মূল্যায়ন বা রেটিং করেছেন প্রাথমিকভাবে বিষমকামী প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

এশিয়ান, আফ্রিকান, মিডল ইস্টার্ন, ককেশিয়ান, লাতিন এবং বহু-জাতিগত গোষ্ঠীর মানুষের মুখের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, মূল্যায়নকারীর নিজস্ব সংস্কৃতি, লিঙ্গ, বয়স বা জাতিসত্তা যা-ই হোক না কেন, সব ক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে নারীর চেহারা বেশি আকর্ষণীয় রেটিং পেয়েছে। তবে অংশগ্রণকারীদের যখন নিজেদের চেহারা রেটিং করতে বলা হয়, তখন এই লিঙ্গভিত্তিক ব্যবধানটি দ্রুত মিলিয়ে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মরফোমেট্রি ও অন্যান্য কারণ বিশ্লেষণ

নারীদের এই বেশি আকর্ষণীয় দেখানোর পেছনে কোনও সাংস্কৃতিক পক্ষপাত, বিবর্তন, সামাজিক স্টেরিওটাইপ নাকি শারীরিক গঠন কাজ করছে, তা জানতে গবেষকেরা গাণিতিক পদ্ধতিতে মুখের গঠন পরিমাপের টেকনিক ‘মরফোমেট্রি’ ব্যবহার করেন। ছবির মান, আলো, মেকআপ ও চুলের স্টাইলসহ সেলফ-গ্রুমিংয়ের প্রভাব এবং বয়স বাড়লে মানুষের আকর্ষণ কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সব খতিয়ে দেখে গবেষণায় পাওয়া যায়, একজন গড়পড়তা নারীর মুখমণ্ডল প্রায় ৬০ শতাংশ পুরুষের মুখের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। গবেষকেরা যখন ছবিগুলোতে নারীদের কোমল বৈশিষ্ট্যগুলো কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেন, তখন তাদের আকর্ষণের রেটিংও কমতে শুরু করে। এটি প্রমাণ করে যে নারীর কোমল বৈশিষ্ট্য ও গোলগাল মুখাবয়বই তাদের বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে।

বিস্ময়কর আবিষ্কার: নারীরাও নারীকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করেন

গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ ও বিস্ময়কর দিকটি ছিল, পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও অন্য নারীদের মুখমণ্ডলকে পুরুষদের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বলে রেটিং দিয়েছেন! বর্তমানের ‘গার্ল ক্রাশ’ ধারণার সঙ্গে মিলে যাওয়া এই ফল গবেষকদের বেশ বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। প্রথমে তারা একে বৈজ্ঞানিক ভুল বা ডেটাবেজে বেশি আকর্ষণীয় নারীর ছবি রাখার ত্রুটি মনে করলেও, পরে দেখা যায় কোনও পক্ষপাত ছাড়াই গ্রাফটি একদম নিখুঁত এসেছে।

ডারউইনের তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ

এই আবিষ্কার ডারউইনের ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ তত্ত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ডারউইনের তত্ত্ব অনুযায়ী, বংশবৃদ্ধির প্রাকৃতিক তাড়নার কারণেই পুরুষেরা নারীদের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং আকর্ষণ মূলত টিকে থাকার একটি মাধ্যম। কিন্তু নারীরাই যখন অন্য নারীকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করছেন, তখন বিজ্ঞানীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, আকর্ষণের এই ধারণা কি তবে কেবল বিবর্তনীয় শক্তির বাইরেও অন্য কিছু?

সূত্র: এনডিটিভি