কুরবানির পশু জবাইয়ের আগে শরিকদের নাম বলার হুকুম কী
কুরবানির পশু জবাইয়ের আগে শরিকদের নাম বলার হুকুম

কুরবানিকে আরবি ভাষায় 'উযহিয়্যা' বলা হয়। 'উযহিয়্যা' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সেই পশু যা কুরবানির দিন জবাই করা হয়। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পশু জবাই করাকে কুরবানি বলে।

কুরবানির তাৎপর্য ও গুরুত্ব

হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালন করতে একমাত্র প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইলকে (আ.) কুরবানি করার মতো নজির স্থাপন করে গেছেন। সেই সুন্নত পালনার্থে মুসলিম জাতি আজও কুরবানি করে থাকে। কুরবানির তাৎপর্য হলো ত্যাগ, তিতিক্ষা স্বীকার করা এবং প্রিয়বস্তুকে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা।

কোনো বিষয় সম্পর্কে বিশুদ্ধ জ্ঞান না থাকার ফলে অনেক সময় তা সুচারুরূপে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না; নানা ধরনের ভুলত্রুটি ঘটে থাকে। অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিথিলতা আবার ঠিক গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে দেখা যায়। আমাদের দেশে কুরবানির কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কিছু ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। না-জানা ও না-বোঝার কারণে অনেকেই এই ভুলগুলো করে থাকেন। আমরা যদি এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলি এবং যথার্থভাবে কুরবানির কাজ সম্পাদন করি, তাহলে তা আমাদের জন্য হবে আরও বেশি কল্যাণকর, আরও বেশি মহিমামণ্ডিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শরিকি কুরবানির নিয়ম

উট, গরু ও মহিষ সাতজনের নামে কুরবানি করা যেতে পারে বা সাত ব্যক্তি এতে শরিক হতে পারে। এক থেকে সাতের মধ্যে যেকোনো সংখ্যক ব্যক্তির পক্ষ থেকে উট, গরু বা মহিষ কুরবানি করা যেতে পারে। তবে কারও অংশ এক সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না।

শরিকদের নাম বলার প্রসঙ্গ

শরিকি কুরবানির ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে একটি ভুল প্রথা প্রচলিত আছে। তা হলো, কুরবানির পশুকে জবাইয়ের জন্য শোয়ানোর পর জবাই বিলম্বিত করে শরিকদের নামের তালিকা পাঠ করা। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি অপ্রয়োজনীয় কাজ। কারণ কুরবানিদাতারা মনে মনে যে পশু কুরবানি করার নিয়ত করেছেন, সেটিই যথেষ্ট। আলাদা করে শরিকদের নাম পাঠ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুখে সব শরিকদের নাম বলা কোনো জরুরি বিষয় নয়। বরং জবাইকারী শুধু পশুটির মালিকদের নামে কুরবানি করছেন এতটুকু মনের মাঝে রেখে জবাই করলেই কুরবানি বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ-১৫/৫১৭)

আর পশুকে শুইয়ে রেখে এভাবে নামের তালিকা পাঠ করার কারণে পশুকে অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া হয়। কোনো কোনো এলাকায় নামের তালিকা পড়তে গিয়ে জবাইয়ে যথেষ্ট বিলম্ব হয়, যা পশুর জন্য কষ্টদায়ক। হাদিস শরিফে জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কষ্ট দিতে নিষেধ করা হয়েছে।