কোরবানির গুরুত্ব ও শরিকি কোরবানির বিধান
কোরবানির গুরুত্ব ও শরিকি কোরবানির মাসআলা

কোরবানির গুরুত্ব

ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআনে কয়েকটি স্থানে কোরবানি প্রসঙ্গ এসেছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘সুতরাং আপনার রবের উদ্দেশে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা কাউসার, আয়াত: ২) আল্লাহর রাসুল (সা.) মদিনায় থাকাকালীন প্রতি বছর কোরবানি করেছেন। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) মদিনায় ১০ বছর অবস্থান করেছিলেন, প্রতি বছর তিনি কোরবানি করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৭)

কোরবানির ফজিলত

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোরবানির দিনের আমলগুলোর মধ্যে পশু কোরবানি করার চেয়ে কোনো আমল আল্লাহ তাআলার কাছে অধিক প্রিয় নয়। কেয়ামতের দিন এই কোরবানিকে তার শিং, পশম ও ক্ষুরসহ উপস্থিত করা হবে। আর কোরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লাহ তাআলার কাছে কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে কোরবানি করো।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৯৩)

একক ও শরিকি কোরবানি

কোরবানি দুইভাবে দেওয়া যায়: একক কোরবানি ও শরিকি কোরবানি। একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কোরবানি দিতে পারবেন। এমন একটি পশু দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে কোরবানি করলে কারোরই সহিহ হবে না। আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরিক হতে পারবে। সাতের অধিক শরিক হলে কারও কোরবানি সহিহ হবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শরিকি কোরবানির শর্ত

হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) আমাদের নির্দেশ করেছেন যে, আমরা একটি গরু এবং একটি উটে সাত জন করে শরিক হয়ে যাই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮) আর সাত জনে মিলে কোরবানি করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারও অংশ এক সপ্তমাংশের কম হবে না। যেমন- কারও আধা ভাগ, কারও দেড় ভাগ– এমন হলে কোনো শরিকের কোরবানি সহিহ হবে না। তবে একজন একাধিক ভাগ নিতে পারবেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শরিকি কোরবানি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

যদি কেউ আল্লাহ তায়ালার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কোরবানি না করে শুধু মাংস খাওয়ার নিয়তে কোরবানি করে, তাহলে তার কোরবানি সহিহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরিকদের কারও কোরবানি হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শরিক নির্বাচন করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮)

কোরবানির গরু, মহিষ ও উটে আকিকার নিয়তে শরিক হতে পারবে। এতে কোরবানি ও আকিকা দুটোই সহিহ হবে। শরিকদের কারও পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারও কোরবানি সহিহ হবে না। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২)

যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কোরবানি দেওয়ার নিয়তে কেনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরিক করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে একা কোরবানি করাই শ্রেয়। শরিক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরিব হয়, যার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব নয়, তাহলে সে অন্যকে শরিক করতে পারবে না। এমন গরিব ব্যক্তি যদি কাউকে শরিক করতে চায় তাহলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে নিবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০)