ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন হলো আরাফার দিন। ‘আরাফা’ শব্দের অর্থ পরিচিত হওয়া বা চেনা। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) এই দিনে পরস্পরের সাক্ষাৎ লাভ করেন। তাই দিনটি আত্মশুদ্ধি, তওবা ও মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত।
আরাফাতের ময়দানের গুরুত্ব
আরাফাতের ময়দান মুসলমানদের কাছে কেয়ামতের দিনের হাশরের ময়দানের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। কারণ সেদিন সমগ্র মানবজাতি মহান আল্লাহর সামনে একত্রিত হবে। এ দিনে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি রহমত, দয়া ও ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত করে দেন। হাদিসে আরাফার দিনের দোয়ার বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
মহানবী (সা.)-এর বাণী
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া। তিনি আরও বলেন, আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যে শ্রেষ্ঠ বাক্য উচ্চারণ করেছেন তা হলো- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।” অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তারই এবং সমস্ত প্রশংসাও তার। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
মুসলমানদের জন্য আরাফার দিনটি অত্যন্ত পবিত্র। এই দিনে রোজা রাখা, দোয়া করা এবং তওবা করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত আছে, আরাফার দিনের রোজা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়। তাই বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা এই দিনটি ধর্মীয় ভক্তি ও আধ্যাত্মিক চেতনায় উদযাপন করে।



