পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি: মিনা থেকে মক্কা পর্যন্ত
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি: মিনা থেকে মক্কা

পবিত্র হজ পালনের জন্য লাখ লাখ মুসলিম এখন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। হজযাত্রীদের জন্য দেশটির সরকার বিশাল চিকিৎসাসেবা, পরিবহন এবং বহুভাষিক সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সোমবার (৮ জিলহজ) সকাল থেকে। হাজিদের মিনায় অবস্থানের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার সময়সূচি

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর আগামী কয়েক দিন পবিত্র স্থানগুলোতে হজযাত্রীরা কখন কোন আচার (রীতি) পালন করবেন, তার একটি সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো:

১. মিনা (৮ জিলহজ)

হজযাত্রীরা মক্কার মসজিদুল হারাম (গ্র্যান্ড মস্ক) থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তাঁবুর শহর মিনায় পৌঁছাবেন। সেখানে তারা পুরো দিন ও রাত প্রার্থনা এবং আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২. আরাফাত (৯ জিলহজ)

মিনা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফাতের ময়দানের দিকে রওনা হবেন হজযাত্রীরা। আরাফাতের এই মরুপ্রান্তরে অবস্থান করে তারা পাপমুক্তির জন্য প্রার্থনা ও তওবা করবেন। ওই দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা এখানেই অবস্থান করবেন।

৩. মুজদালিফাহ (৯ জিলহজ)

আরাফাত ময়দানে অবস্থানের পর সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা রওনা হবেন মুজদালিফাহর দিকে, যা মিনা ও আরাফাত পর্বতের মধ্যবর্তী একটি উপত্যকা। সেখানে তারা রাত যাপন করবেন এবং মিনার জামারাতে ‘শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ’ করার জন্য ছোট ছোট পাথর বা নুড়ি সংগ্রহ করবেন।

৪. মিনা (১০ জিলহজ)

মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায়ের পর হজযাত্রীরা আবার মিনার দিকে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে তারা জামারাত আল-আকাবায় প্রথম দিনের মতো শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন।

৫. মসজিদুল হারাম (১০ ও ১২ জিলহজ)

এরপর হজযাত্রীরা আবার মক্কায় ফিরে গিয়ে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবেন। সেখানে তারা ‘তাওয়াফ আল-ইফাদাহ’ (কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ) সম্পন্ন করবেন এবং সাফা ও মারওয়াহ পাহাড়ের মধ্যে ‘সাঈ’ (দৌড়াদৌড়ি) করবেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৬. মিনা (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ)

পরবর্তী তিন দিন ধরে হজযাত্রীরা মিনার তিনটি জামারাত স্তম্ভে (আল-উলা, আল-উসতা ও আল-আকাবাহ) পাথর নিক্ষেপ করবেন। মুজদালিফাহ থেকে আগে সংগ্রহ করে রাখা নুড়ি পাথর দিয়ে শয়তানের প্রতীকী এই তিনটি স্তম্ভে পাথর মারা হবে।

৭. মক্কা

হজের শেষ ধাপে হজযাত্রীরা আবার মক্কায় ফিরে আসবেন এবং কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ বা ‘তাওয়াফ আল-বিদা’ সম্পন্ন করবেন। এর মধ্য দিয়েই জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই আধ্যাত্মিক যাত্রার সমাপ্তি ঘটবে এবং হজযাত্রীরা মক্কা ত্যাগ করবেন।

সূত্র: আরব নিউজ