ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ব্যস্ততা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে লাখো মানুষ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন। তবে এই সময় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে ঈদের যাত্রাকে নিরাপদ রাখতে সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি ধর্মীয়ভাবে দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন মুমিনের জন্য এই আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিও নিরাপদ সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
দোয়া পড়ে বের হওয়ার পরামর্শ
রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী পাঠকদের উদ্দেশে পরামর্শ জানিয়ে বলেন, ‘ঈদে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় কিংবা দূরপাল্লার সফরে যাওয়ার আগে দোয়া পড়ে বের হওয়া উচিত। এর পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। এতে আল্লাহ তায়ালার রহমতে মানুষ বিপদ-আপদ থেকে হেফাজতে থাকতে পারে।’
ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া
মুফতি আবদুর রহমান বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় একটি দোয়া পড়ার কথা বলেছেন আল্লাহর রাসুল (সা.)। এই দোয়া পড়লে সব ধরনের বিপদ-আপদ ও অসুবিধা থেকে আল্লাহ তায়ালা রক্ষা করেন। দোয়াটি হলো: بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ। উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। (তিরিমিজি: ৩৪২৬) অর্থ: আল্লাহর নামে, আল্লাহ তায়ালার ওপরই নির্ভর করলাম। আল্লাহ তায়ালার সাহায্য ছাড়া বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারো নেই।
দোয়ার ফজিলত
দোয়াটি পড়ার ফজিলত হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, যদি কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে, ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’, তবে তাকে বলা হয় (আল্লাহ তায়ালাই) তোমার জন্য যথেষ্ট, তুমি হেফাজত অবলম্বন করেছ (অনিষ্ট থেকে)। তাতে শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়। (তিরমিজি: ৩৪২৬)
যানবাহনে চড়ার দোয়া
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, সেই সত্তা, যিনি সর্বপ্রকার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তুর বাহন তৈরি করে দিয়েছেন। যাতে তোমরা তার পিঠে আরোহণ করতে পারো। অতঃপর যখন তোমরা তাতে চড়ে বস, তখন তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর এবং বলো, سُبْحٰنَ الَّذِیْ سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَ مَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِیْنَ وَ اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ। উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা ওয়ামা কুন্না লাহু মুকরিনিন ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনকলিবুন। অর্থ: পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। অন্যথায় একে বশীভূত করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। আর আমাদেরকে তো আমাদের প্রতিপালকের কাছেই ফিরে যেতে হবে। (সুরা যুখরুফ: ১২-১৪)



