জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের জাতীয় ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। কবির জীবন ও কর্ম বিশ্ব দরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার জীবনবোধ ও তার জীবনদর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্ম পৌঁছে দিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে নজরুল স্মৃতি হিসেবে ঘোষণা করা যায় কিনা এ ব্যাপারে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
শনিবার (২৩ মে) বিকালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ত্রিশালে জাতীয়ভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন করতে পেরে সরকার গৌরব বোধ করছে। ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির মরদেহবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে করে বহন করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির মাজার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি র্যালিতেও অংশ নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।’
গুণিজনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এভাবে জাতীর কবির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা এবং সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয় না। বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে। আমি মনে করি, এইসব কালজয়ী আদর্শ থেকে দূরে চলে যাওয়ার কারণেই বর্তমানে আমাদের সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় দৃশ্যমান।’
মূল্যবোধ পুনর্জীবনের আহ্বান
‘আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জীবন ঘটাতে হবে। এ ক্ষেত্রেও কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী ও কর্ম আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধু দেশের মানুষের অধিকার আর অর্থ-সম্পদই লুট করেনি, বিচার বিভাগসহ দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সবচেয়ে যেটি বেশি ক্ষতি হয়েছে, ফ্যাসিবাদী সরকার মানবিকতা এবং দেশের আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলো একেবারেই বিনষ্ট করে দিয়েছে।’



