কোরবানির ঈদ: নামাজের আগে কোরবানি হলে কী হবে? জেনে নিন সঠিক সময়
কোরবানির ঈদ: নামাজের আগে কোরবানি হলে কী হবে?

আর মাত্র কদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। কোরবানি একটি বিশেষ ইবাদত, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবেহ করা। আল্লাহ তায়ালা কোরবানি শুধুমাত্র তার জন্যই করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, 'বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার ইবাদত ও আমার জীবন-মরণ সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। তার কোনও শরীক নেই। আমাকে এরই হুকুম দেওয়া হয়েছে এবং আনুগত্য স্বীকারকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম।' (সুরা আনআম, আয়াত : ১৬২-১৬৩) অর্থাৎ, নামাজ, কোরবানি সব ইবাদতই একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যই আদায় করতে হবে। কারণ, মুশরিকরা প্রতিমার জন্য প্রার্থনা করে এবং পশু জবাই করে। এর বিপরীতে মুসলিমদের সব কাজে ইখলাস বা একনিষ্ঠতা অবলম্বন করতে হবে।

কোরবানির সঠিক সময়

ঈদুল আজহার দিন কোরবানির পশু জবেহ করার সময় শুরু হয় ঈদুল আজহার নামাজের পর থেকে। সুতরাং এলাকার ঈদের নামাজ শেষ হবার পরই কোরবানি করতে হবে। ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার আগে কোরবানি করলে তা আদায় হবে না। জুনদাব ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি (সা.) কোরবানির দিন নামাজ আদায় করেন, তারপর খুতবা দেন। তারপর জবেহ করেন এবং তিনি বলেন, 'নামাজের পূর্বে যে ব্যক্তি জবেহ করবে তাকে তার স্থলে আর একটি জবেহ করতে হবে এবং যে জবেহ করেনি, আল্লাহর নামে তার জবেহ করা উচিত।' (বুখারি, হাদিস : ৯৮৫)

প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য বিশেষ বিধান

তবে যদি এমন কোনো প্রত্যন্ত গ্রাম হয় যেখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় না, বা এমন কোনো এলাকা হয় যেখানে ঈদের নামাজ পড়া বৈধ নয়, সেক্ষেত্রে ঈদের দিন ফজরের পর থেকেই কোরবানি করা যাবে। হানাফি মাযহাব মতে, কোরবানির সময় মূলত ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায়। তবে যেসব শহর বা বড় গ্রামে জুমার নামাজ ও ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার শর্ত বিদ্যমান থাকে, সেখানে ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা বৈধ নয়। আর যেসব ছোট গ্রামে বা জনপদে ঈদের নামাজ পড়ার আইনি বা শারীয় বাধ্যবাধকতা নেই, কিংবা যেখানে ঈদের জামাত হয় না, সেখানে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক হওয়ার পরপরই কোরবানি করা যাবে। এক্ষেত্রে ঈদের নামাজের জন্য অপেক্ষা করা জরুরি নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংক্ষেপে মূলনীতি

মূলত শহর বা বড় জনপদে ঈদের নামাজের পর কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চল বা ছোট গ্রাম যেখানে ঈদের জামাত হয় না, সেখানকার বাসিন্দারা ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই কোরবানি সম্পন্ন করতে পারবেন। তাই নিজ এলাকার অবস্থান ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কোরবানির সময় নির্ধারণ করা উচিত।