মোশাররফ করিমের সাক্ষাৎকার: ফেসবুক বন্ধের ইচ্ছা ও আত্মিক উন্নয়নের কথা
মোশাররফ করিমের সাক্ষাৎকার: ফেসবুক বন্ধের ইচ্ছা

প্রশ্ন: আপনার অভিনীত চরিত্রগুলো যদি একসঙ্গে ভোটে দাঁড়ায়, কে জিতবে আর কে জামানত হারাবে?

মোশাররফ করিম: (হাসি) জামানত হারানোর মতো চরিত্রের সংখ্যা অনেক। তবে সেগুলো আমি মনেও রাখি নাই। জিতবে বললে, বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার রশীদ উদ্দিন চরিত্রের কথা বলব। যমজ-এর ক্যারেক্টারটাও জিতে যেতে পারে।

প্রশ্ন: কখনো বাজারে গিয়ে নিজের অভিনীত কোনো চরিত্রের মতো দরদাম করেছেন?

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মোশাররফ করিম: না, করিনি। যা দাম বলে তাতেই কিনি। আমি খুব একটা দরদাম করতে পারিও না। একপর্যায়ে আমার একটু লজ্জা লাগে। মনে হয় যে লোকটাকে ঠকাচ্ছি। পরে অবশ্য মনে হয়, আমি নিজেই ঠকেছি। অর্থনৈতিকভাবে ঠকলেও আমি এটাকে ঠকা মনে করি না। ওই মানুষটার খুশিই আমার কাছে বড় হয়ে দেখা দেয়।

প্রশ্ন: স্ত্রী কি কখনো বলেছেন, ‘বাসায় মোশাররফ করিম না, আসল মানুষটা ফিরুক?’

মোশাররফ করিম: কখনোই না। কারণ, আসল মানুষটা হারায় না। মানুষটা ঠিকঠাক আছে, যেমনটা আগেও ছিল।

প্রশ্ন: যদি এক দিনের জন্য ফেসবুক আপনার হাতে দেওয়া হয়, কী করবেন—মিম বন্ধ করবেন, নাকি নিজের মিমে লাইক দেবেন?

মোশাররফ করিম: মনে হচ্ছে ফেসবুকটাই বন্ধ করে দেই কি না (হাসি)! আগে কয়েকটা পত্রিকাই যথেষ্ট ছিল অথেনটিক খবর জানার জন্য। এখন ফেসবুকে দেখি, কোনো ঘটনায় ভয়ংকর এক্সাইটেড হয়ে প্রচুর লোক কমেন্ট করছে। ১৫ দিন পর সেই মানুষগুলোই অপরাধবোধে ভুগছে। কারণ, তত দিনে পুরো ঘটনাটাই অন্যভাবে আবিষ্কৃত হয়ে গেছে! তাই বলছি আর কী, সুযোগ থাকলে ফেসবুকটাই বন্ধ করে দিতাম।

প্রশ্ন: যদি এক দিনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন, প্রথম কোন আইনটি চালু করবেন?

মোশাররফ করিম: আমার এ রকম ইচ্ছাই করে না। তবে যদি কাল্পনিকভাবে বলি, মানুষের আত্মিক উন্নয়নে জোর দেব। আত্মার উন্নয়ন ঘটলে বাকি উন্নয়ন এমনিতেই ঘটে যাবে।

প্রশ্ন: আপনার মিম দেখে কখনো কি মনে হয়েছে, ‘যে বানিয়েছে, সে আমার চেয়েও ট্যালেন্টেড কেউ?’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মোশাররফ করিম: প্রায়ই মনে হয়। আমারটা ছাড়াও অনেকের মিম দেখেও মনে হয়, যারা বানায়, তারা খুবই মেধাবী।

প্রশ্ন: যদি আপনার সব চরিত্র নিয়ে একটা পারিবারিক মিলনমেলা হয়, সবচেয়ে আগে মারামারি বাধাবে কে?

মোশাররফ করিম: সব চরিত্র ভাবলে গ্যাঞ্জাম লাগানোর চরিত্র যমজ নাটকের বড় ছেলেটা। মূলত ও-ই ভেজালটা লাগাবে!

প্রশ্ন: কোনো দিন কি এমন হয়েছে, মানুষ আপনাকে দেখে আপনার কোনো চরিত্রের নাম ধরে ডাকছে আর আপনি নিজের নামটাই ভুলে যাচ্ছেন?

মোশাররফ করিম: মানুষ আমার নামটাই ভুলে যাচ্ছে, এ রকম বহুবার ঘটছে। একবার ময়মনসিংহে, আমি কী একটা কাজে ব্যস্ত, খুবই মনোযোগ দিয়ে কাজটা করছিলাম। এমন সময়ে একজন বসা অবস্থা থেকে ঘুরিয়ে আমাকে থ্রেট দেওয়া শুরু করল। যা তা বলছিল। ভাবলাম, পাগল নাকি! ধমক দিলাম। লোকটা তখন খুবই মন খারাপ করে বলল, ‘বস, আমি তো আপনার নাটকের সংলাপ বলছি, ফোরটুয়েন্টি নাটকের সংলাপ।’ পরে আফসোস হলো। সরি বললাম। আর এ–ও মনে হলো, সে খারাপ অভিনয় করেনি!

প্রশ্ন: আপনার জীবনের ওপর নাটক হলে নাম কী হবে—‘অভিনেতা’, ‘মিমের রাজা’, নাকি ‘যাকে দেখলে মানুষ হাসে?’

মোশাররফ করিম: আয়না হতে পারে। আবশ্য আমার এ–ও মনে হয়, কখনো যদি বই লিখি, নামটা হিন্দিও হয়ে যেতে পারে। কিশোর কুমারের একটা গান আছে—‘ঘুঙরু কি তারা বাজতা হি রাহা হুঁ মায়।’ আমার মনে হয়, অভিনেতার জীবন ঘুঙরুর মতো বেজে চলেছে। কখনো সে বিশাল প্রতিভাবান পরিচালকের পায়ে, কখনো নাচতে জানে না এমন কারও পায়ে—এই আরকি।

প্রশ্ন: দুইটা কথা মনে রাখবেন—এই মুহূর্তে কোন দুইটা?

মোশাররফ করিম: প্রথমটা লিভ অ্যান্ড লেট লিভ। আরেকটা, যে এই কথাটা বলছে, তাকে ভালোবাসো।

[এই সাক্ষাৎকারটি কাল্পনিক নয়!]

আরও পড়ুন

হুমায়ূন ভাই বললেন, ‘তোমার গায়ে দেখি অনেক জোর’, রসালাপে ফারুক আহমেদ ১৮ মে ২০২৬

আমি জেলখাটা পাবলিক: পরীমনি ২৪ মে ২০২৬

প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

রস+আলো থেকে আরও পড়ুন: রসালাপ, মোশাররফ করিম, রস‍+আলো সংখ্যা ৩