রাহুলের মৃত্যুতে শিল্পীদের কর্মবিরতি: শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে কলাকুশলীদের দাবি
রাহুলের মৃত্যুতে শিল্পীদের কর্মবিরতি, নিরাপত্তার দাবি

রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুতে শিল্পী সমাজের কর্মবিরতি: শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুতে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় শিল্পী সম্প্রদায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং শুটিংয়ের সময় কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে কলকাতার স্টুডিওপাড়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম ও সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন। গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটার সময় টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বহু নামী-দামী শিল্পী ও টেকনিশিয়ান।

শিল্পীদের নিরাপত্তাহীনতা: একটি যৌথ লড়াইয়ের সূচনা

আর্টিস্ট ফোরামের জেনারেল সেক্রেটারি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ‘যাঁদের হাতে সুরক্ষাব্যবস্থা আছে, তাঁরা যতক্ষণ না আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন, ততক্ষণ এই কর্মবিরতি চলবে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে আর্টিস্ট ফোরামের চার হাজার সদস্য, ফেডারেশনের সাত হাজার টেকনিশিয়ান এবং সমস্ত কলাকুশলীর সম্মতিতে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শান্তিলাল আরও যোগ করেন, ‘আমরা শিল্পীরা প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি। শুটিংয়ে বেরিয়ে আমরা ফিরতে পারব কি না, সেটা বুঝতে পারি না। রাহুলের মৃত্যু আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে যে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভাবা অত্যন্ত জরুরি।’

শিল্পী নেতৃবৃন্দের একই সুর: নিরাপত্তার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ

অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও এই কর্মবিরতিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন, ইম্পার মতো বিভিন্ন সংগঠন থাকলেও রাহুলের মৃত্যু সবাইকে একত্র করে দিয়েছে। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি সামনে এনেছে, এবং আমরা এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ভীত।’ তিনি উল্লেখ করেন যে প্রযোজকরাও শিল্পীদের পাশে রয়েছেন, এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্যই এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিনেতা-পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত প্রত্যেকেই রাহুলের মৃত্যুর তদন্তের স্বার্থে এই কর্মবিরতিকে সমর্থন করেছেন। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই কর্মবিরতির ফলে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত সকলেই রুজিরুটির সমস্যায় পড়তে পারেন, কিন্তু ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের মতে, ‘এটি আমাদের মানবিকতার লড়াই। আমরা আজ সমগ্র পরিবার একত্র হয়েছি, এবং আমাদের জীবনের নিশ্চয়তার দাবিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাহুলের জন্য আমরা এই লড়াই শেষ অবধি চালিয়ে যাব এবং সত্যিটা জানতে চাই।’

ফেডারেশনের অবস্থান: নিরাপত্তা বিধির অভাবে বাধ্য হয়ে কর্মবিরতি

ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস গতকালের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা কর্মবিরতির পক্ষে নই, কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তার কারণে বাধ্য হয়েছি। প্রথমেই আমাদের সুষ্ঠু নিরাপত্তা বিধি দরকার, এবং সেই কারণেই আমরা মঙ্গলবার থেকে এই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছি।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ানসহ সকলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ‘আমরা কাজের মধ্যে নিজেদের উজাড় করে দিতে চাই, কিন্তু নিজেদের বিসর্জন দিতে রাজি নই,’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয়ের। এই দুর্ঘটনা শিল্পী মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটিগুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত, কর্মবিরতির সময়সীমা নির্দিষ্ট না হলেও শিল্পীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।