বরুণ ধাওয়ানের কঠিন সময়: কন্যাসন্তানের বিরল রোগে মানসিক সংগ্রাম
বলিউড অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান ব্যক্তিগত জীবনে এক কঠিন সময় পার করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে তিনি প্রকাশ করেছেন যে, তার দেড় বছরের কন্যাসন্তান লারা একটি বিরল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পরিবার ও মেয়েকে সময় দিতে অভিনেতা আপাতত অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ক্যারিয়ার ও পারিবারিক চাপ
গত কয়েক বছর ধরে বরুণ ধাওয়ানের ক্যারিয়ারে চড়াই-উতরাই চলছে। পাশাপাশি বাবা হিসেবে সন্তানের এই কষ্ট তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। যদিও কাজের ক্ষেত্রে তিনি ইদানীং বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে ‘বর্ডার ২’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর তার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু অভিনেতা জানিয়েছেন, জীবনের এই কঠিন সময়ে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলো তার বাবা— পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান।
লারার রোগ ও চিকিৎসা
২০২১ সালে বরুণ ধাওয়ান তার দীর্ঘদিনের বান্ধবী ও ফ্যাশন ডিজাইনার নাতাশা দালালকে বিয়ে করেন। ২০২৪ সালের ৩ জুন তাদের ঘর আলো করে আসে কন্যাসন্তান লারা। তার মেয়ে লারা ‘ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অব দ্য হিপ’ (ডিডিএইচ) নামক একটি বিরল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। এ রোগের ফলে কোমরের দিকের হাড় কিছুটা বেরিয়ে আসে, যার কারণে একটি পা অন্যটির চেয়ে লম্বা হয়ে যায়। এর ফলে শিশুর স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলায় সমস্যা দেখা দেয়। সঠিক চিকিৎসা না হলে খুব অল্প বয়সেই বাতের ব্যথা বা স্লিপ ডিস্কের মতো জটিল সমস্যা হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বরুণ ধাওয়ান বলেন, “এ রোগের চিকিৎসা বেশ কষ্টকর। ছোট শিশুদের ‘স্পাইকা কাস্ট’ নামক একটি বিশেষ ব্রেস পরিয়ে রাখতে হয়। লারাকে টানা আড়াই মাস এটি পরে থাকতে হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মেয়েকে অজ্ঞান করে এই কাস্ট পরানো হতো, যা দেখা একজন বাবার জন্য খুবই কষ্টের। তবে স্বস্তির বিষয় হলো— এখন আর তাকে এটি পরে থাকতে হচ্ছে না এবং কোনো অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন পড়েনি।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বরুণ ধাওয়ানের এই সিদ্ধান্ত তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে সহানুভূতি সৃষ্টি করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, লারার স্বাস্থ্য উন্নতির পর আবারও পর্দায় ফিরে আসবেন। এই সময়ে তিনি পরিবারের পাশে থেকে মেয়ের যত্ন নিতে মনোনিবেশ করছেন।



