সেরা অভিনেতার পুরস্কার হাতে তুলে নিলেন আফরান নিশো। মীর হোসেনের মফস্সল শহরের চেনা চরিত্র, জমাটি চিত্রনাট্য, দুর্দান্ত নির্মাণ, মনে রাখার মতো সংলাপ আর অবিশ্বাস্য অভিনয়—সব মিলিয়ে গত বছর মুক্তি পাওয়া শিহাব শাহীনের ‘দাগি’ সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সেরা বাংলা সিনেমা। এই সিনেমায় জেলফেরত আসামি নিশান চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন আফরান নিশো। গতকাল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে তারকা জরিপে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতা নির্বাচিত হন তিনি।
পুরস্কার গ্রহণের প্রতিক্রিয়া
পুরস্কার গ্রহণ করে নিশো বলেন, ‘আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি গ্রুপ থিয়েটার থেকে আসা কেউ নই, কিন্তু আমার যতটুকু বোঝাপড়া আছে অভিনয় নিয়ে, সেটা দিয়েই আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। দর্শকেরা আমাকে পছন্দ করেন, তাঁরা আমাকে আগলে রাখেন—এটা আমার খুব ভালো লাগে। লাভ ইউ। আমি সিনিয়রদের কাছ থেকে দেখে দেখে শিখেছি। যাঁরা মনোনয়ন পেয়েছিলেন, তাঁরা অত্যন্ত গুণী মানুষ। তাঁদের আমি শ্রদ্ধার চোখে দেখি। অনেক ধন্যবাদ মেরিল-প্রথম আলো, আমাকে এই স্বীকৃতিটি দেওয়ার জন্য।’
এরপর পুরস্কারটি প্রয়াত অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে উৎসর্গ করেন আফরান নিশো। অভিনেতা অনেকবারই বলেছেন, হুমায়ুন ফরীদি তাঁর অভিনয়ের বড় প্রেরণা। নিশো বলেন, ‘আমি সব সময় যাঁর কথা মনে করি, সব সময় আমি তাঁকে মনে রাখতে চাই... ফরীদি ভাই, দিস ইজ ফর ইউ।’
‘দাগি’ সিনেমায় নিশোর অভিনয়
‘দাগি’ মুক্তির পর প্রথম আলোয় প্রকাশিত সিনেমাটির রিভিউয়ে নিশোর অভিনয় নিয়ে লেখা হয়েছিল, ‘সুড়ঙ্গ’র পর দ্বিতীয় সিনেমায়ও দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। ‘নিশান’ চরিত্রের জন্য ওজন বাড়িয়েছেন, ১৪ বছর জেল খেটে অনিশ্চয়তা আর স্বপ্ন নিয়ে বাড়িতে ফেরা যুবকের চরিত্রে তিনি অসাধারণ। শেষ দিকের অ্যাকশন আর শুরুর রোমান্টিক দৃশ্য—দুটোতেই নিজের জাত চিনিয়েছেন নিশো। মনের রাগকে বশ মানাতে বারবার যখন বলতে থাকেন, ‘আল্লার দুনিয়ায় সব সুন্দর, ফুল সুন্দর, পাখি সুন্দর...’, তখন চোখ ফেরানো যায় না। তেমনি জেরিনের সঙ্গে খুনসুটি, বড় এক দুঃসংবাদ পেয়ে রাগে ফুঁসতে থাকা তরুণের চরিত্রে অভিনয়ও ভালো লাগে। সিনেমার মেজাজের সঙ্গে জুড়ে আছে শায়েরি। নিশানের শায়েরি বলা নিশোর গম্ভীর কণ্ঠে দারুণভাবে মানিয়ে গেছে।’
‘দাগি’ সিনেমায় আফরান নিশোর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।



