ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি জীবনযাপনে ভিন্নধর্মী এক উদাহরণ তৈরি করেছেন। বর্তমান সময়ের অনেক অভিনয়শিল্পী বিলাসবহুল গাড়ির বাইরে চলাফেরা কল্পনাই করেন না, কিন্তু তিনি একেবারেই ব্যতিক্রম। ভরদুপুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে বাস কিংবা অটোতে যাতায়াত করতে দেখা যায় তাকে। শুধু তাই নয়, গড়িয়াহাট মোড়েও সাধারণ মানুষের মতো দাঁড়িয়ে ফুচকা উপভোগ করতে দ্বিধা করেন না এই অভিনেত্রী।
তারকা পরিবারে জন্ম, তবু সাধারণ থাকার পছন্দ
তারকা পরিবারে জন্ম এবং নিজে প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হয়েও নিজেকে সেলিব্রিটি হিসেবে আলাদা করে তুলে ধরতে আগ্রহী নন স্বস্তিকা। তাঁর মতে, ‘সেলিব্রিটি’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো যাকে নিয়ে মানুষ উদযাপন করে। কিন্তু বর্তমানে এই শব্দটির প্রয়োগ তাঁকে বেশ ভাবিয়ে তোলে।
‘সেলিব্রিটি বললে গালাগালির মতো লাগে’
তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে সেলিব্রিটি মনে করি না। সেলিব্রিটি কথাটার এখন এত অপব্যবহার হয় যে, আমাকে কেউ সেলিব্রিটি বললে মনে হয় কেউ যেন আমাকে গালাগালি দিচ্ছে। আমি সবাইকে বলি, আমাকে মানুষ বলুন, শিল্পী বলুন, অভিনেত্রী বলুন কিংবা একজন নারী বলুন, কিন্তু দয়া করে সেলিব্রিটি বলবেন না।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকা বিচার নিয়ে প্রশ্ন
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসারী সংখ্যা বা ভিডিওর জনপ্রিয়তা দিয়ে যেভাবে তারকা বিচার করা হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বস্তিকা। তাঁর কথায়, ‘এখন সবাই সেলিব্রিটি। কারও যদি বেশি ফলোয়ার্স থাকে, সে-ও সেলিব্রিটি। সবাই এখন ইনফ্লুয়েন্সার। আমি জানি না তারা আসলে কী ইনফ্লুয়েন্স করছেন।’
আত্মবিশ্বাসী স্বস্তিকা
নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে বরাবরই আত্মবিশ্বাসী স্বস্তিকা আরও জানান, তিনি খুব সাধারণ মানুষ এবং সেভাবেই জীবন কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি অন্তত নিজেকে সেলিব্রিটি মনে করি না। আমি খুব সাধারণভাবেই থাকতে পছন্দ করি। তাই কেউ আমাকে সেলিব্রিটি বললে আমার ভালো লাগে না, বরং আমি তাকে নিষেধ করি।’



