যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরে অনুষ্ঠিত ১৩তম কানেক্টহার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতা সুরাইয়া তাছনিন সাথীর প্রামাণ্যচিত্র ‘রেশমা: এ স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি’ ‘উইমেন অ্যান্ড ওয়ার্ক’ ক্যাটাগরিতে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করেছে। বিশ্বের ২৬টি দেশের ১৮৪টি চলচ্চিত্রকে পেছনে ফেলে এই সম্মান পেয়েছেন তিনি।
প্রথম নির্মাণেই সাফল্য
এই চলচ্চিত্রটি ছিল সুরাইয়ার প্রথম নির্মাণ। কানেক্টহারের ফেলোশিপভিত্তিক ফিল্ম ক্লাসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। প্রায় এক বছরের গবেষণা ও পরিশ্রমের পর তৈরি এই প্রামাণ্যচিত্র তার প্রথম কাজেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
কানেক্টহারের ভূমিকা
কানেক্টহার একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা নারী ও কন্যাশিশুদের সামাজিক অবস্থান উন্নয়নে কাজ করে। তারা নারী-নেতৃত্বাধীন প্রকল্প, শিক্ষার্থী নির্মাতাদের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরা এবং তরুণদের সামাজিক পরিবর্তনে সম্পৃক্ত করার কাজ করে থাকে।
মেন্টরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
সুরাইয়ার সাফল্যের পেছনে ফেলোশিপের মেন্টর নভেরা হাসান নিক্কণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর দিকনির্দেশনায় সুরাইয়া কারিগরি ও শৈল্পিক দিকগুলো আয়ত্ত করেছেন, যা চলচ্চিত্রটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সাহায্য করেছে।
উৎসবের আয়োজন
উৎসবটি ১ ও ২ মে অস্টিনের স্ট্রিট থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সমাপনী দিনে বিশ্বব্যাপী নির্মাতাদের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। উল্লেখযোগ্য, সুরাইয়া এই বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, এবং পড়াশোনার পাশাপাশি তার এই অর্জন বিচারকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।
চলচ্চিত্রের বিবরণ
‘রেশমা: এ স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি’ চলচ্চিত্রটির মূল চরিত্র সুরাইয়া ফারহানা রেশমা, যার বাস্তব জীবনের সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়ের লড়াই এই চলচ্চিত্রের কেন্দ্রবিন্দু। সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন মিঠুন বর্মন ও মারুফ ভুঁইয়া। প্রডাকশন টিমে ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক, আপন, আরিফ, সুস্মি সরকার ও অর্ঘ্য রায়, এবং কারিগরি সহায়তায় ছিল ধ্রুপদ কমিউনিকেশন।
নির্মাতার প্রতিক্রিয়া
বিজয় প্রসঙ্গে সুরাইয়া তাছনিন সাথী বলেন, “আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কানেক্টহার-এ ফিল্ম ক্লাসে প্রথম যখন সিনেমা তৈরির পাঠ নিচ্ছিলাম, তখন ভাবিনি প্রথম ছবিতেই এমন অর্জন আসবে। এই ফেলোশিপ ও এক বছরের সাধনা আজ সার্থক হলো। আমার মেন্টর নভেরা হাসান নিক্কণ এবং আমার মা কহিনুর বেগমের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।”
পুরস্কার ও প্রভাব
এই অর্জনের মাধ্যমে সুরাইয়া তাছনিন সাথী ২,৫০০ মার্কিন ডলার প্রাইজ মানি ও একটি স্কলারশিপ লাভ করেছেন। তিনি মনে করেন, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।



