বাগেরহাট মাজারে কুকুর হত্যার ঘটনায় তারকাদের ক্ষোভ, মানবিকতার প্রশ্নে উদ্বেগ
মাজারে কুকুর হত্যায় তারকাদের ক্ষোভ, মানবিকতার প্রশ্ন

বাগেরহাট মাজারে কুকুর হত্যার ঘটনায় তারকাদের ক্ষোভ

বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে এক করুণ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। গত ৮ এপ্রিল, বুধবার বিকেলে মাজারের দক্ষিণ দিঘির প্রধান ঘাটে একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যায় একটি কুমির। এই মর্মান্তিক দৃশ্য সরাসরি দেখেছেন এবং ভিডিও ধারণ করেছেন উপস্থিত দর্শনার্থীরা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, অসহায় কুকুরটিকে বাঁচাতে কেউই এগিয়ে আসেননি।

তারকাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি জানার পর অভিনেত্রী জয়া আহসান ফেসবুকে একটি পোস্ট ভাগাভাগি করেছেন। প্রাণী অধিকারের জন্য সব সময় সোচ্চার জয়া তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘একজনের কনটেন্ট বানানো আর মজা করার জন্য যে তাকে নির্মমভাবে অনর্থক মরতে হবে, এটা সে বোঝেনি। বোকা কুকুর!’ জয়ার এই পোস্টে আরেক অভিনেত্রী দীপা খন্দকার মন্তব্য করেছেন, ‘ভয়ানক।’

অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেশের মানুষের মানবিকতা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ঘটনাটা এতক্ষণে হয়তো আপনারা সবাই জানেন। আসলে এ দেশে মানুষের চেয়ে অমানুষের সংখ্যা বেশি। সভ্যদের চাইতে অসভ্যর সংখ্যা বেশি। দেশ খারাপ না ভাই, দেশের মানুষগুলো খুব খারাপ! তাই দেশটা আগায় না।’ ইরফান সরকারের কাছে মিনতি জানিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সরকার, দেশের মানুষগুলো ঠিক করেন, দেশ অটো ঠিক হয়ে যাবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গায়ক ও অভিনেতাদের উদ্বেগ

গায়ক তানজীব সারোয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘মৃত্যুর আগপর্যন্ত তাকিয়ে ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ও ভেবেছিল, ওর এই বিশ্বস্ত লোকটা তাকে বাঁচাবে। কিন্তু এখানে কুমিরের দোষ নেই; কারণ, কুমিরের খিদে পেলে সে দেখামাত্রই খেয়ে ফেলে। আর এখানে নিরীহ কুকুর, এটাই কি মনুষ্যত্ব?’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাণীদের ব্যাপারে সব সময় সোচ্চার অভিনেতা নিলয় আলমগীর বলেছেন, ‘প্রশাসনের উচিত খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।’ পরিচালক অং রাখাইন মনঃক্ষুণ্ন হয়ে লিখেছেন, ‘এই জাতি আগামী ১০০ বছর টিকে থাকতে পারবে কি না।’

ঘটনার পটভূমি

মাজারের খাদেম, নিরাপত্তা প্রহরী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ঘটনাটির সূত্রপাত অন্যত্র। মাজারের দিঘির কাছে একটি অসুস্থ কুকুর শিশুসহ কয়েকজনকে কামড় দেয়। এরপর কয়েকজন কুকুরটিকে তাড়াতে লাঠি ছুড়ে মারে। কুকুরটি নারীদের ঘাট থেকে মূল ঘাটের দিকে দৌড় দেয়। সেখানে গিয়ে মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকানকে আঁচড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায় এবং তখনই কুমিরটি তাকে ধরে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়।

এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দর্শনার্থীরা কেন কুকুরটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। প্রাণী অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে। তারকাদের প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা যায়, সমাজে প্রাণীদের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।