মাকে স্মরণ করে আবেগাপ্লুত ওমর সানী
মাকে স্মরণ করে আবেগাপ্লুত ওমর সানী

ঢালিউড অভিনেতা ওমর সানীর জন্মদিন ৬ মে। তিনি নিজে জন্মদিন পালন না করলেও স্ত্রী প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী ও সন্তানেরা তা উদযাপন করেন। কিন্তু জন্মদিন এলেই তার মনে পড়ে যায় মায়ের কথা। ২০০০ সালের ২৩ মে মাকে হারান ওমর সানী। সে কারণে জন্মদিনে তার কোনো আনন্দ থাকে না; নীরবে কাটে দিন। মায়ের জন্য মন কাঁদে, যা ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি।

মা দিবসে ফেসবুক স্ট্যাটাস

এবার মা দিবস সামনে রেখে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ওমর সানী। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তার মা ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি বিয়ের সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। ওমর সানী ও মৌসুমীর দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই বড় ভূমিকায় ছিলেন তার মা। সবকিছু মায়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করতেন এবং মা সবসময় ক্যারিয়ারের প্রতিটি পরিস্থিতিতে সন্তানের পাশে ছিলেন।

বিয়ের স্মৃতি

শনিবার (৯ মে) ওমর সানী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন— ১৯৯৫ সালের কথা। জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখন বাসা ছিল ডিওএইচএস মহাখালীতে। তিনি ও মৌসুমী বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। সেদিনই মাকে বিয়ের কথা জানান। পরিবার কী বলবে, মেনে নেবে কিনা— এই প্রশ্নে উদ্বিগ্ন ছিলেন। পরে তার মা পাশে দাঁড়ান। তিনি লেখেন— অনেক ভেবেচিন্তে মা বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজি ডাকেন। আমাদের বিয়ে দেন। সেখান থেকে আজ অবধি আমরা একসঙ্গে আছি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মায়ের প্রতি ভালোবাসা

ওমর সানী মা দিবসে মাকে স্মরণ করে লেখেন— আজ আমার মা দুনিয়াতে নেই। বিশ্ব মা দিবসে অসীম ভালোবাসা আমার মায়ের জন্য। আর এই দুর্লভ ছবি আপনাদের দিলাম, মা আমি তোমাকে অনেক মিস করি, আই লাভ ইউ মা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শুটিংয়ের কষ্টের স্মৃতি

ওমর সানী আরও লেখেন— একবার শুটিংয়ে চাবুকের আঘাতে জ্বর আসে। শুরুতে কিছুই বুঝতে পারেননি। রাতে বাসায় ফেরার পর মা দেখেন— ছেলের পিঠ লাল হয়ে আছে। এরপর হুলুস্থুল অবস্থা। তিনি বলেন— শরীরের অবস্থা দেখে আমার সহকারীকে ডাকেন মা। চিৎকার করে বলতে থাকেন— কী হয়েছে আমার ছেলের? এই ছবির পরিচালক কে? তারে ডেকে নিয়ে আসো। আমার ছেলের এই অবস্থা কেন করছে? নায়িকাই-বা কে ছিল, কেন এভাবে আঘাত করেছে? বোনদের ডেকে অস্থির, একপর্যায়ে মা কাঁদতে থাকেন। তারপর মাকে বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। পরে রাতে জ্বর চলে আসে। সেই জ্বর নিয়েই পরদিন শুটিং যান। সেদিনও মায়ের ভালোবাসা দেখে আবেগপ্রবণ হন তিনি।

জন্মদিনের শূন্যতা

মায়ের মৃত্যু হওয়ায় জন্মদিনটি তার ভালো কাটে না। গত বছর জন্মদিনেও মায়ের স্মৃতি তাকে কাঁদিয়েছে। এ নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন— আমার জন্মদিনে সেদিন থেকেই শূন্যতা, যেদিন আমার আম্মা মারা যান। ২০০০ সালের এই মাসের ২৩ তারিখেই আম্মা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। এর পর থেকে এই দিনে ভাষাহীন থাকি। কিছুই ভালো লাগে না। বিবর্ণ থাকি। আমি চাইও না দিনটা উদযাপনের।