তানিম নূরের সাক্ষাৎকার: 'বনলতা এক্সপ্রেস'-এর অভূতপূর্ব সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তানিম নূর: 'বনলতা এক্সপ্রেস'-এর সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

তানিম নূরের মুখোমুখি: 'বনলতা এক্সপ্রেস'-এর সাফল্যের রহস্য ও চলচ্চিত্র জগতের ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশি চলচ্চিত্র জগতে সম্প্রতি 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পরিচালক তানিম নূরের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এই সাফল্যের পেছনের গল্প, সাহিত্যনির্ভর সিনেমা নির্মাণের চ্যালেঞ্জ, এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।

অপ্রত্যাশিত সাফল্য: 'বনলতা এক্সপ্রেস'-এর বিশ্বজয়

তানিম নূর স্বীকার করেছেন যে, 'উৎসব' সিনেমার সাফল্যের পর 'বনলতা এক্সপ্রেস'-এর প্রতি দর্শকদের আগ্রহের আশা ছিল। তবে, মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহেও মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের অভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রে বক্স অফিসে ১৬তম অবস্থানে পৌঁছে ইতিহাস সৃষ্টি করা—এতটা বিশাল গ্রহণযোগ্যতা তিনি কখনোই কল্পনা করেননি। এই সাফল্যকে তিনি অভূতপূর্ব ও গর্বের হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সাহিত্যনির্ভর সিনেমা: ঝুঁকি নাকি ঐতিহ্য?

যখন প্রশ্ন ওঠে সাহিত্যনির্ভর সিনেমা নির্মাণের ঝুঁকি নিয়ে, তানিম নূর স্পষ্টভাবে বলেন, একদমই না। তিনি উদাহরণ হিসেবে 'দ্য গডফাদার' এবং 'থ্রি ইডিয়টস'-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলোর কথা উল্লেখ করেন, যা সাহিত্য অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল। তাঁর মতে, সাহিত্যনির্ভর গল্পে সিনেমা নির্মাণ চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অংশ, এবং তিনি এতে কোনো নতুনত্বের দাবিদার নন। বরং, তিনি মার্টিন স্করসেজি ও স্ট্যানলি কুব্রিকের মতো মহান পরিচালকদের অতি দুর্বল শিষ্য হিসেবে নিজেকে দেখেন, যারা ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দর্শকদের সাথে সম্পৃক্ততা: ১০০% বাংলাদেশি ছবির মন্ত্র

'বনলতা এক্সপ্রেস'-এর সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে তানিম নূর ১০০% খাঁটি বাংলাদেশি ছায়াছবি হওয়ার বিষয়টিকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সিনেমাটির গল্প, চরিত্র, এবং পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে দেশি হওয়ায় দর্শকরা সহজেই এটি আপন করে নিতে পেরেছেন। এই স্থানীয়তা ও পরিচিতিই মানুষের সাথে গভীর সংযোগ তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: প্রযোজনা সংস্থা 'বুড়িগঙ্গা টকিজ'-এর ভূমিকা

তানিম নূরের দুই সিনেমাতেই তাঁর নিজের বিনিয়োগ ছিল, এবং তিনি ভবিষ্যতে পরিচালনা না করেও প্রযোজক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, 'বুড়িগঙ্গা টকিজ' প্রযোজনা সংস্থার জন্মই হয়েছে নতুন ও সম্ভাবনাময় নির্মাতাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে। বিশেষ করে, বাণিজ্যিক ফর্মুলার বাইরের গল্পগুলো, যেগুলোর সফলতার সম্ভাবনা প্রবল, সেগুলোকে সহায়তা করাই এই সংস্থার লক্ষ্য।

চরিত্র নির্মাণ ও ঘরানা পরিবর্তন: শিল্পীর আত্মতৃপ্তি

তাঁর সিনেমাগুলোতে তারকা অভিনেতাদের জন্য উপযুক্ত চরিত্র নির্মাণের প্রশ্নে তানিম নূর তাঁর চিত্রনাট্যকার ও সহকারী পরিচালকদের উপর পুরোপুরি আস্থা রাখেন। তিনি বলেন, গল্পের জন্য প্রতিটি চরিত্র সমান গুরুত্বপূর্ণ হওয়া নিশ্চিত করাই মূল কাজ।

পরপর দুটি পরিবারকেন্দ্রিক সিনেমার সাফল্য সত্ত্বেও, তিনি অন্যান্য ঘরানার সিনেমা বানাতে চান। তানিম নূরের মতে, সব ধরনের ছবির দর্শক বাংলাদেশে আছে, এবং তিনি থ্রিলার, ড্রামা, ক্রাইম, এমনকি হরর ঘরানার সিনেমাও নির্মাণ করতে আগ্রহী। শিল্পী হিসেবে আত্মতৃপ্তি ও সৃজনশীলতা বজায় রাখাই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য।

পরবর্তী পদক্ষেপ: নতুন সিনেমার পরিকল্পনা

পরের সিনেমার বিষয়ে তানিম নূর বিস্তারিত কিছু বলতে না চাইলেও, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরেই 'বুড়িগঙ্গা টকিজ'-এর নতুন সিনেমা মুক্তি পাবে, যেখানে তিনি প্রযোজক হিসেবে ভূমিকা রাখবেন, এমনকি পরিচালক না হলেও।

সাক্ষাৎকারের শেষে, তানিম নূর দর্শকদের প্রত্যাশা ও তাঁর নিজের পছন্দের মধ্যে সমান্তরাল থাকার উপর জোর দেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সৎ ও সুনির্মিত কাজের মাধ্যমেই দর্শকদের হলে আনা সম্ভব, এবং তিনি কেবল নিজের পছন্দের গল্পগুলোর সাথেই সম্পৃক্ত থাকবেন।