সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সর্বশেষ সংখ্যা শুধু উদ্বেগজনক নয়, এটি আমাদের সড়ক নিরাপত্তার ভয়াবহ বাস্তবতার এক করুণ স্মারক। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে এপ্রিল মাসে ৪০৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এই মৃত্যুর একটি বড় অংশ ঘটেছে মোটরসাইকেল ও পথচারীদের মধ্যে।
দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা
এটি আবারও প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের সড়কগুলি বছরের পর বছর ধরে প্রতিশ্রুতি, নীতি ও জনগণের ক্ষোভ সত্ত্বেও মারাত্মকভাবে অনিরাপদ রয়ে গেছে। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ধারা: প্রতি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় শত শত নিরপরাধ প্রাণ ঝরে যাচ্ছে, যার অধিকাংশই সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এড়ানো সম্ভব।
মূল কারণসমূহ
অন্তর্নিহিত কারণগুলি সুবিদিত: বেপরোয়া গাড়ি চালনা, অযোগ্য যানবাহন, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, এবং বিপজ্জনকভাবে অপর্যাপ্ত সড়ক অবকাঠামো। তবে এই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা আরও গভীর কিছু নির্দেশ করে—শাসন ও জবাবদিহিতায় একটি পদ্ধতিগত বিপর্যয়।
নীতি বিদ্যমান, আইন প্রণীত হয়েছে, টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন এতটাই দুর্বল যে তা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন উভয়েরই অভাব রয়েছে, অন্যদিকে প্রয়োগ প্রায়শই অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কখনও কখনও আপসকৃত। ফিটনেস সার্টিফিকেট যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই জারি করা হয়, ড্রাইভিং লাইসেন্সিং ত্রুটিপূর্ণ রয়ে গেছে, এবং লঙ্ঘনগুলি প্রায়শই অদণ্ডিত থেকে যায়।
পথচারীদের ঝুঁকি
একইভাবে উদ্বেগজনক যে, পথচারীরা নিরাপদ ক্রসিং, ফুটপাথ বা পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। তদুপরি, মাঝে মাঝে পরিচালিত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা সড়ক শৃঙ্খলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে খুব কমই ভূমিকা রাখছে।
করণীয়
এখন যা প্রয়োজন তা হল সিদ্ধান্তমূলক, টেকসই পদক্ষেপ। বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ, অযোগ্য যানবাহন অপসারণ, ড্রাইভার প্রশিক্ষণের পেশাদারিকরণ, এবং নিরাপদ সড়ক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ অবিলম্বে অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তথ্য-চালিত পর্যবেক্ষণ ও স্বচ্ছ প্রতিবেদনও নীতি সমন্বয়ের পথ দেখাতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তা একটি আনুষঙ্গিক বিষয় নয়; এটি সুশাসনের একটি মৌলিক পরিমাপ। যতক্ষণ না কর্তৃপক্ষ এটিকে সেভাবে বিবেচনা করে, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর এই দুঃখজনক তালিকা বাড়তেই থাকবে।



