সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের দুই দিকপালের সংলাপ: মার্কেস-কুরোসাওয়া সাক্ষাৎকার
মার্কেস-কুরোসাওয়া সাক্ষাৎকার: সাহিত্য-চলচ্চিত্রের সংলাপ

দুই ভিন্ন মহাদেশের দুই মহান শিল্পস্রষ্টার মুখোমুখি সংলাপ। একদিকে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, অন্যদিকে আকিরা কুরোসাওয়া। সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের দুই পৃথক ভাষার মিলনবিন্দুতে দাঁড়িয়ে তাঁরা কথা বলেন ইতিহাস, শিল্প ও মানবতার গভীর সংকট নিয়ে। কথোপকথনটি প্রকাশিত হয়েছিল ২৩ জুন ১৯৯১ লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস আর্কাইভে। কিন্তু এর প্রাসঙ্গিকতা এখনো ঘোচেনি। অনুবাদ করেছেন জেসী খন্দকার।

চিত্রনাট্য ও সৃজনপ্রক্রিয়া

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: বন্ধুত্বপূর্ণ এই আলাপ যেন প্রেস সাক্ষাৎকারের মতো না লাগে। তবে আমি অত্যন্ত কৌতূহলী, আপনার আর আপনার কাজের নানা দিক সম্পর্কে আরও জানতে চাই। প্রথমে জানতে চাই, কীভাবে আপনি আপনার চিত্রনাট্য লেখেন। আমি নিজেও চিত্রনাট্যকার। আপনি বহু মহান সাহিত্যকর্মের অসাধারণ রূপান্তর করেছেন। অথচ আমার নিজের রচনারও রূপান্তর—যেগুলো হয়েছে বা হতে পারে—সেগুলো নিয়ে আমার অনেক সংশয় আছে।

আকিরা কুরোসাওয়া: যখন কোনো মৌলিক ধারণা আসে, আর সেটিকে চিত্রনাট্যে রূপ দিতে চাই, আমি কাগজ–কলম নিয়ে হোটেলে নিজেকে একা রাখি। গল্পের সাধারণ কাঠামো তখন আমার জানা থাকে, আর শেষটা কীভাবে হবে তার ধারণাও প্রায় ঠিক থাকে। কোন দৃশ্য দিয়ে শুরু করব, সেটা বুঝতে না পারলে আমি স্বাভাবিকভাবে মাথায় আসা ধারাবাহিক ভাবনাগুলো অনুসরণ করি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্কেস: আপনার মাথায় প্রথমে যা আসে, সেটা কি একটি ধারণা নাকি একটি ছবি?

কুরোসাওয়া: সবকিছুই শুরু হয় কিছু ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা চিত্রকল্প থেকে। জাপানি চিত্রনাট্যকারেরা প্রথমে পুরো চিত্রনাট্যের সামগ্রিক রূপ তৈরি করেন, দৃশ্য অনুযায়ী তা সাজান এবং পরে প্লট প্রক্রিয়াভূত করার পরে লিখতে শুরু করেন। তবে আমি মনে করি না এটাই সঠিক পথ। কারণ, আমরা তো ঈশ্বর নই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিত্রগুলো নিছক সাধারণ কোনো শহরের মতো দেখাচ্ছিল। কারণ, কোনো গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাই সেগুলোতে প্রকাশ পায়নি—যেমন সেখানে কাজের শর্তগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং খনিশ্রমিকদের স্ত্রী ও সন্তানেরা চিরকাল নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়ে বেঁচে থাকে। কিন্তু ক্যামেরা তা একইভাবে ধারণ করতে পারে না।

মার্কেস: আপনি যখন শেক্‌সপিয়ার, গোর্কি বা দস্তয়েভস্কির রূপান্তর করেছেন, তখনো কি আপনার পদ্ধতি এতটাই অন্তর্দৃষ্টিমূলক ছিল?

কুরোসাওয়া: সাহিত্যকে বা তার চিত্রগুলো দর্শকের কাছে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। উদাহরণস্বরূপ, একটি গোয়েন্দা উপন্যাসের রূপান্তরে—যেখানে রেললাইনের পাশে একটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে—একজন পরিচালক জোর দিয়েছিলেন যে সিনেমাতে কোনো একটি স্থানের চিত্র যেন উপন্যাসের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। আমি বললাম, ‘আপনি ভুল করছেন। যারা এই উপন্যাস পড়েনি, তাদের কাছে সেই স্থানের কোনো বিশেষত্ব নেই।’

মার্কেস: আপনি কি জীবনের এমন কোনো চিত্রকল্পের কথা বলতে পারেন, যা চলচ্চিত্রে প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন?

কুরোসাওয়া: হ্যাঁ। ইলিদাচি নামে একটি খনির শহরচিত্র। সেখানে খুব কম বয়সে আমি সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলাম। পরিচালক প্রথম নজরেই ঘোষণা করেছিলেন যে পরিবেশটি চমৎকার ও অদ্ভুত। এ কারণেই আমরা সেখানে শুটিং করেছিলাম। কিন্তু চিত্রগুলো নিছক সাধারণ কোনো শহরের মতো দেখাচ্ছিল। কারণ, কোনো গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাই সেগুলোতে প্রকাশ পায়নি—যেমন সেখানে কাজের শর্তগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং খনিশ্রমিকদের স্ত্রী ও সন্তানেরা চিরকাল নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়ে বেঁচে থাকে। কিন্তু ক্যামেরা তা একইভাবে ধারণ করতে পারে না।

চলচ্চিত্র ও সাহিত্য রূপান্তর

মার্কেস: আমি খুব কম ঔপন্যাসিককেই জানি, যাঁরা তাঁদের সাহিত্যের চলচ্চিত্রায়ণ নিয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন। আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

কুরোসাওয়া: প্রথমে আমি জানতে চাচ্ছি, আপনি কি আমার রেড বিয়ার্ড সিনেমাটি দেখেছেন?

মার্কেস: হ্যাঁ, আমি গত বিশ বছরে ছয়বার দেখেছি। আর প্রায় প্রতিদিনই আমার সন্তানদের সঙ্গে ছবিটি নিয়ে আলোচনা করেছি। পরে তারা নিজেরাই সিনেমাটি দেখেছে। এটি শুধু আমার পরিবারেরই প্রিয় নয়, সমগ্র চলচ্চিত্র–ইতিহাসে আমার প্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি।

কুরোসাওয়া: রেড বিয়ার্ড আমার বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা। এর আগের সব সিনেমা আমার পরের সিনেমা থেকে আলাদা। ছবিটি এক পর্যায়ের সমাপ্তি আর অন্য এক পর্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে।

মার্কেস: সেটা খুবই স্পষ্ট। একই চলচ্চিত্রে দুটি দৃশ্য আছে, যা আপনার সমগ্র কাজের তুলনায় চরম, যা ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়—একটি হলো প্রেয়িং ম্যান্টিসের দৃশ্য, অন্যটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কারাতে লড়াই।

কুরোসাওয়া: হ্যাঁ, তবে মূল বিষয় হলো—বইয়ের লেখক শুগোরো ইয়ামামোতো সব সময়ই তাঁর উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপান্তরের বিরোধী ছিলেন। রেড বিয়ার্ড–এর ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম করেছিলেন, কারণ আমি ধৈর্য ধরে কাজ করে শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিলাম। সিনেমাটা দেখে তিনি বললেন, ‘চলচ্চিত্রটি আমার উপন্যাসের চেয়ে আকর্ষণীয়।’

মার্কেস: কেন তিনি এতটা পছন্দ করলেন?

কুরোসাওয়া: কারণ, তিনি সিনেমার অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতেন। তিনি শুধু একটাই শর্ত দিয়েছিলেন—প্রধান চরিত্রটির প্রতি যাতে আমি খুব সতর্ক হই, যাকে তিনি দেখেছিলেন সম্পূর্ণ ব্যর্থ একজন নারী হিসেবে। কিন্তু কৌতূহলের বিষয় হলো, তাঁর উপন্যাসে ব্যর্থ নারীর ধারণাটি মোটেই স্পষ্ট ছিল না।

মার্কেস: হয়তো তিনি ভেবেছিলেন, সেটা আছে। এ ধরনের ঘটনা আমাদের ঔপন্যাসিকদের মধ্যে প্রায়ই ঘটে।

কুরোসাওয়া: ঠিক তা–ই। বাস্তবে, তাঁদের সাহিত্যের ভিত্তিতে নির্মিত চলচ্চিত্র দেখার পর কিছু লেখক বলেছেন, ‘আমার উপন্যাসের সেই অংশটি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।’ অথচ আসলে যে বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বলছিলেন, সেটা পরিচালকের সৃষ্টি। আমি বুঝতে পারি, তাঁরা কী বলতে চাচ্ছেন, কারণ পরিচালক তাঁদের অন্তর্দৃষ্টি বোঝেন, তাই চলচ্চিত্রে পরিষ্কারভাবে সেই ভেতরকার ভাবনাটাই দেখানো হয়েছে।

পারমাণবিক বোমা ও ইতিহাস

মার্কেস: আপনার নতুন চলচ্চিত্রে তাইফুন কি সবচেয়ে কঠিন দৃশ্য হবে?

কুরোসাওয়া: না, প্রাণীদের নিয়ে কাজ করাটাই সবচেয়ে কঠিন ছিল—জলসাপ, গোলাপখেকো পিঁপড়া। বিশাল বন্য সাপ ধরতে হয়েছে। সেটা পালানোর চেষ্টা করছিল, আর সত্যিই ভয়ংকর ছিল। পিঁপড়াগুলোকে এক লাইনে একটি গোলাপে ওঠানোর জন্য মধু দিয়ে পথ তৈরি করতে হয়েছে। অনেক অসুবিধা হয়েছিল, কিন্তু শিক্ষণীয়ও ছিল।

মার্কেস: প্লট কী ছিল?

কুরোসাওয়া: পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যাওয়া নাগাসাকির এক বৃদ্ধার কাহিনি। তাঁর নাতি-নাতনিরা গত গ্রীষ্মে তাঁকে দেখতে এসেছেন। আমি ধাক্কা লাগার মতো দৃশ্য দেখাইনি, বরং বোমার হৃদয়বিদারক প্রভাব আর তা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার বিষয় ফুটিয়ে তুলেছি।

মার্কেস: পারমাণবিক বোমার ইতিহাস ভুলে যাওয়া জাপানের ভবিষ্যৎ আর জাপানের জনগণের পরিচয়ের জন্য কী অর্থ বহন করে?

কুরোসাওয়া: জাপানিরা এসব বিষয় স্পষ্টভাবে আলোচনা করে না। রাজনীতিবিদেরা যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ে নীরব। সরকারিভাবে বলা হয়েছে, হিরোশিমা ও নাগাসাকির মৃত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার; কিন্তু বাস্তবে এ সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। এখনো পারমাণবিক বোমা হাসপাতালে ২ হাজার ৭০০ রোগী মৃত্যুর জন্য অপেক্ষমাণ। আসলে পারমাণবিক বোমা এখনো প্রাণঘাতীই হয়ে আছে।

মার্কেস: যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করেছিল সম্ভবত এই কারণে, যাতে সোভিয়েতরা তাদের আগে জাপান দখল করতে না পারে।

কুরোসাওয়া: হ্যাঁ, তবে কেন তারা এমন একটি শহরে এটি ঘটাল, যেখানে নিছক সাধারণ নাগরিকেরা বাস করত, যুদ্ধের সঙ্গে যাদের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক ছিল না?

মার্কেস: আমেরিকা কেন শুধু সাধারণ নাগরিকদের ওপর বোমা ব্যবহার করল?

কুরোসাওয়া: সামরিক কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও তারা বোমা ফেলল শহরে। রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে অক্ষত রাখার মাধ্যমে দ্রুত আলোচনার সুযোগ তৈরি করা ছিল মূল কারণ।

আমার মনে হয় পারমাণবিক শক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পারমাণবিক শক্তি পরিচালনায় কোনো ভুল ঘটলে তাৎক্ষণিক বিপর্যয় ভয়ানক হবে; এর তেজস্ক্রিয়তায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আসুন, এমন উপাদান ব্যবহার বন্ধ করি, যা শত শত হাজার বছর ধরে পৃথিবীকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

মার্কেস: পারমাণবিক বোমা ছাড়া জাপান আত্মসমর্পণ করত কি?

কুরোসাওয়া: এটা বলা কঠিন। নাগাসাকির বেঁচে যাওয়া মানুষেরা তাঁদের অভিজ্ঞতা মনে রাখতে চান না, কারণ তাঁদের অধিকাংশকে বেঁচে থাকার জন্য তাঁদের মা–বাবা, সন্তান আর ভাইবোনদের ছেড়ে যেতে হয়েছিল। তাঁরা এখনো সেই ট্রমা থেকে মুক্ত হতে পারেননি। পরে দেশটি ছয় বছর দখল করে থাকা মার্কিন সেনারা নানা উপায়ে ভুলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করেছিল। জাপান সরকারও তাদের সহযোগিতা করেছিল। এটি যুদ্ধ–সৃষ্ট অনিবার্য ট্র্যাজেডি। তবে আমার মনে হয়, অন্তত জাপানি জনগণের কাছে আমেরিকার ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। সেটা না হওয়া পর্যন্ত এই নাটক শেষ হবে না।

পারমাণবিক শক্তি ও মানবজাতি

মার্কেস: কিছু সুখের সময় দিয়ে কি এই ক্ষতিপূরণ সম্ভব?

কুরোসাওয়া: না। পারমাণবিক বোমা স্নায়ুযুদ্ধ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে। এ রকম অবস্থায় সুখ কখনোই সম্ভব নয়।

মার্কেস: আমি বুঝতে পারছি। পারমাণবিক শক্তি একটি অভিশপ্ত শক্তি হিসেবে জন্ম নিয়েছিল। আর অভিশপ্ত শক্তি কুরোসাওয়ার জন্য একটি নিখুঁত থিম। তবে আমাকে যা উদ্বিগ্ন করছে তা হলো আপনি পারমাণবিক শক্তির ওপর দোষ চাপাচ্ছেন না; বরং শুরু থেকেই এটি কীভাবে অপব্যবহৃত হয়েছে সেটারই সমালোচনা করছেন। বৈদ্যুতিক চেয়ার থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ এখনো একটি ভালো জিনিস!

কুরোসাওয়া: আমার মনে হয় পারমাণবিক শক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পারমাণবিক শক্তি পরিচালনায় কোনো ভুল ঘটলে তাৎক্ষণিক বিপর্যয় ভয়ানক হবে; এর তেজস্ক্রিয়তায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আসুন, এমন উপাদান ব্যবহার বন্ধ করি, যা শত শত হাজার বছর ধরে পৃথিবীকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সব বিবেচনায়, যদি আমি জাপানি হতাম, আমি আপনার মতো উদার হতাম। কোনো যুদ্ধই কারও জন্য ভালো নয়।

মার্কেস: আপনার চলচ্চিত্র যেন মানবতার প্রতি এক অগাধ বিশ্বাসের প্রতিফলন। তবে শক্তিকে চিরকাল অভিশপ্ত বলা অন্যায়, কারণ এটি মানবজাতির জন্য সেবাও দিতে পারে।

কুরোসাওয়া: মানুষ আরও মানবিক হবে, যখন বুঝবে বাস্তবতার অনেক দিক আছে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

মার্কেস: আপনার প্রক্রিয়াধীন চলচ্চিত্র কি এ রকম বিষয় তুলে ধরেছে?

কুরোসাওয়া: সরাসরি নয়। শুটিংয়ের সময় আমি বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছি। এখন অনেক বেশি জানিও। সরাসরি প্রকাশ করলে চলচ্চিত্র আজকের জাপানে বা অন্য কোথাও দেখানো যেত না।

মার্কেস: আমাদের এই সংলাপ কি আমরা প্রকাশ করতে পারি?

কুরোসাওয়া: আমার কোনো আপত্তি নেই। আসল বিষয় হলো, পৃথিবীর বহু মানুষেরই কোনো ধরনের বিধিনিষেধ ছাড়াই মত প্রকাশ করা উচিত।

মার্কেস: অনেক ধন্যবাদ। সব বিবেচনায়, যদি আমি জাপানি হতাম, আমি আপনার মতো উদার হতাম। কোনো যুদ্ধই কারও জন্য ভালো নয়।

কুরোসাওয়া: ঠিক তা–ই।