প্রথমবার সিনেমা নিয়ে বিদেশের কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে গেলেন আশনা হাবিব ভাবনা। তিনি বলেন, দারুণ অভিজ্ঞতা। বিশ্বের নামকরা সব চলচ্চিত্র সমালোচক, তারকা, প্রযোজক, পরিচালক ও কলাকুশলীদের সঙ্গে নিজের সিনেমা দেখাটা অন্য রকম আনন্দের। একজন শিল্পী সব সময় সীমানার বাইরে নিজেকে দেখে। বরাবরই শিল্পীর ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষাটা এ রকম। এই উৎসবে তিনি তাঁর দেশকে নিয়ে গেছেন, এটা অনেক বড় পাওয়া ছিল। কারণ, মস্কোতে এবার বাংলাদেশকে উপস্থাপন করেছেন তিনি।
যাত্রাশিল্প নিয়ে সিনেমা ও চরিত্রের প্রস্তুতি
ভাবনার চরিত্রের নাম প্রিন্সেস রোজি, যার সঙ্গে তাঁর কোনো মিল নেই—না শারীরিক গঠনে, না মানসিকভাবে। সেই জায়গা থেকে মানসিক লড়াই তো ছিলই, কী করে তিনি এই চরিত্রের মনস্তত্ত্বে ঢুকবেন। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তাঁকে ৯ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছে। সেটা তাঁর জন্য ভয়ংকর শারীরিক চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ, ওজন কমানো যেমন কষ্ট, বাড়ানোও ভয়ংকর কষ্ট। যাত্রাপালায় যেসব প্রিন্সেস দেখা যায়, তাঁর কাছে যে ধারণা বা ইমেজ ছিল, যে চরিত্রের মতো তিনি হতে চেয়েছিলেন, তাদের শারীরিক গঠন, আচরণ, অভিব্যক্তি রপ্ত করার জন্য চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। হয়তো মানুষ ভাবছে, ভাবনা মোটা হয়ে যাচ্ছে কেন? তিনি কাউকে তা বোঝাতেও পারছিলেন না। অভিনয়শিল্পী হিসেবে তাঁকে জিরো ফিগার হতে হবে, এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে, শরীরকে তৈরি করতে চান। তিনি ক্ল্যাসিক্যাল ড্যান্সার। কিন্তু প্রিন্সেসদের নাচ একেবারেই আলাদা। সেসব নাচের ইউটিউব ভিডিও দেখেছেন। যাত্রাপালাও দেখেছেন। যাত্রাশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এভাবেই নিজেকে তৈরি করেন।
উৎসবে অন্যান্য সিনেমা দেখা
নিজের সিনেমা ছাড়া কারোরটাই দেখতে পারেননি। কানে যখন গিয়েছিলেন, তখন দেখার সুযোগ হয়েছিল। কারণ, সেখানে তাঁর সিনেমা ছিল না—অবসর ছিল, সিনেমা দেখতেন শুধু। এবারের উৎসবে তাঁর ছবি ছিল—তাই নানা ধরনের ব্যস্ততা ছিল। সাক্ষাৎকার, সংবাদ সম্মেলন, সিনেমার প্রিমিয়ার—তাই অন্য সিনেমা দেখতে পারেননি। সব অনুষ্ঠানে নিজেকে তৈরি করার বিষয়ও ছিল। দেশে তো একটা অনুষ্ঠানে গেলে তৈরির পেছনে কয়েকজন থাকে। একজন সহকারীও থাকে; কিন্তু মস্কোতে তিনি একা।
মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার ইচ্ছা
উৎসবকেন্দ্রিক সিনেমা তিনি একদমই করতে চান না। সিনেমা বলতে বোঝেন গুড ফিল্ম অ্যান্ড ব্যাড ফিল্ম—বিশ্বব্যাপী এটাই প্রচলিত। এমন সিনেমা করতে চান, যেটা তাঁর দেশের প্রান্তিক মানুষেরা তাদের কষ্টের টাকা দিয়ে টিকিট কেটে তাঁকে দেখার জন্য আসবে। তাঁর নাচ দেখবে, যখন তারাও নাচবে। তাঁর নাচ দেখে তারাও পাগল হয়ে যাবে। অবশ্যই তিনি মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমায় কাজ করতে চান। কারণ, সেখানে অনেক দর্শক। সমালোচকদের জন্যও কাজ করতে চান। নিজেকে একটা গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চান না। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমাতে দায়িত্বও অনেক বেশি। তাঁর প্রথম সিনেমা তা–ই। নাচ, গান সবই ছিল। তিনি তাই নাচে–গানে ভরপুর সিনেমাও করতে চান।
‘পাপ কাহিনী ২’–এ যুক্ত হওয়ার কারণ
‘পাপ কাহিনী’ প্রথম সিরিজ সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না, সমালোচনা হয়েছে এখন জানতে পারলেন। তিনি প্রথমে (শাহরিয়ার নাজিম) জয় ভাইকে বলে দিয়েছিলেন, তিনি পর্দায় এটা এটা করবেন, এটা এটা করবেন না। তাঁর নিজের কিছু এথিকস ছিল, এটার সঙ্গে জয় ভাই একমত ছিলেন। তাঁর পর্বটা সবাই দেখলে বুঝতে পারবেন। তাঁর পর্বের নাম প্রতিশোধ। সম্পর্কে প্রতারিত হয়ে মেয়েদের আত্মহত্যার বিষয় আছে। গত রোববারও দেখলেন আমাদের একজন থিয়েটারকর্মী আত্মহত্যা করেছেন! তাঁর গল্পটাও অনেকটা এ রকম, তবে একটা মেয়ে যাতে কোনোভাবেই আত্মহত্যা না করে—এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই সিরিজের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর সমাজের মেয়েদের এই বার্তাটা দিতে চান। হয়তো ট্রেলারে মানুষের আগ্রহ তৈরির জন্য চমকপ্রদ সংলাপ বা এমন কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। তবে অন্য পর্বের সঙ্গে তাঁর পর্বের কোনো মিল নেই। এই পর্বটা দেখলে বুঝতে পারবে, এখানে অশ্লীলতা বলতে কিছু নেই। প্রতিশোধ কীভাবে নিতে পারবেন, সেটাই এখানে দেখানো হয়েছে।
চরিত্রের চ্যালেঞ্জ
চ্যালেঞ্জিং বলতে, জীবনে প্রথমবার তাঁকে মানুষ গালি দিতে দেখবে। কখনো পর্দায় তিনি কাউকে গালি দিয়ে কথা বলেননি। কিন্তু এই চরিত্রের জন্য কাজটা করতে হয়েছে। কারণ, দরকারও ছিল। পর্বটা দেখলে সবাই বুঝতে পারবে, কেন এই চরিত্রটা গালি দিয়ে কথা বলছে। এ রকম একটা মেয়ের চরিত্র করা, যে কিনা একজন সুপারস্টারের স্ত্রী, যার স্বামী পরকীয়া সম্পর্কে জড়ায়। সিরিজে তিনি একজন গৃহিণী। ব্যক্তিগত জীবনে তো তিনি একজন সুপারস্টার, তাই না। (হাসি) একজন সাধারণ গৃহিণী কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটা তো তাঁর জন্য অবশ্যই ভীষণ চ্যালেঞ্জিং ছিল।
সিনেমা মুক্তির খবর
বেশ কয়েকটি সিনেমা করেছেন। কোনোটি মুক্তি পায়নি। কোনো সিনেমা মুক্তির খবর আছে? তিনি বলেন, আমি কয়েকটায় কাজ করেছি; কিন্তু সিনেমা মুক্তির বিষয়টি আমার হাতে নেই, তাই বলতে পারছি না।



