পেড্ডি বিতর্ক: জাহ্নবীকে 'আই ক্যান্ডি' ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষমা চাইলেন পরিচালক
পেড্ডি বিতর্ক: জাহ্নবীকে 'আই ক্যান্ডি' ব্যবহারের অভিযোগ

মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ঝড় তুলছে দক্ষিণি সুপারস্টার রাম চরণ অভিনীত প্যান-ইন্ডিয়া ছবি ‘পেড্ডি’। তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটি এখন আলোচনায় রয়েছে অন্য কারণে। জাহ্নবী কাপুর অভিনীত চরিত্রকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অনেকের অভিযোগ, ছবিতে জাহ্নবীকে কেবল ‘আই ক্যান্ডি’ বা দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন ছবির পরিচালক বুচি বাবু সানা এবং বিতর্কিত দৃশ্যগুলোতে পরিবর্তন আনার ঘোষণাও দিয়েছেন।

ছবি ও বিতর্কের সূত্রপাত

৪ জুন মুক্তি পাওয়া ‘পেড্ডি’ ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন রাম চরণ ও জাহ্নবী কাপুর। মুক্তির আগে থেকেই ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। তবে ট্রেলার, গান ও প্রচারণামূলক বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই জাহ্নবীর চরিত্র ‘অচিয়াম্মা’কে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সমালোচকদের অভিযোগ, ছবির বিভিন্ন দৃশ্যে নারীচরিত্রকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে যৌন আবেদনময় করে দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে কিছু ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, পোশাক নির্বাচন, সংলাপ এবং উপস্থাপনার ধরন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন দর্শকদের একটি অংশ। তাঁদের মতে, ছবিতে নারীর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও সম্মতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে যথেষ্ট সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখানো হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিনেত্রী গায়ত্রীর সমালোচনা

বিতর্ক নতুন মাত্রা পায় দক্ষিণি অভিনেত্রী গায়ত্রী চাগান্তির মন্তব্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জাহ্নবী কাপুর নিজেও এই উপস্থাপনার শিকার। গায়ত্রীর ভাষায়, ‘সত্যি বলতে, জাহ্নবীকে খুব কম ক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয়ের জন্য নেওয়া হয়। বরং তাঁর শারীরিক আবেদনই অনেক সময় চরিত্রের প্রধান পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘চরিত্রের প্রয়োজন হলে গ্ল্যামার দেখানোতে আপত্তি নেই। কিন্তু প্রায় প্রতিটি চরিত্রেই তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন তাঁর শরীরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমনকি যেসব চরিত্রে সরল বা পেশাদার উপস্থাপনা প্রয়োজন, সেখানেও একই প্রবণতা দেখা যায়।’ গায়ত্রী আরও লিখেছেন, ‘কেরালার গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নির্মিত দৃশ্যের মধ্যেও হঠাৎ করে বাগ্দান অনুষ্ঠানের গানে জাহ্নবীকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় সাজে দেখানো হয়েছে। আবার “সানি সংস্কারি কি তুলসি কুমারী” ছবির কথাও মনে করুন। এমনকি যেসব দৃশ্যে তিনি একজন শিক্ষক, বিশেষ করে প্রি-স্কুল শিক্ষিকার চরিত্রে অভিনয় করছেন, সেখানেও তাঁর পোশাক ও উপস্থাপনা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে দর্শকের নজর চরিত্রের চেয়ে তাঁর শারীরিক আবেদনের দিকে বেশি যায়। প্রয়োজন ছাড়াই ক্লিভেজ দেখানো হচ্ছে। আমি এমন আরও অনেক উদাহরণ দিতে পারি, তবে আশা করি আপনারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গায়ত্রীর এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে মূলধারার সিনেমায় নায়িকাদের উপস্থাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আবার অনেকে মনে করেন, এ ক্ষেত্রে দায় মূলত নির্মাতাদের, অভিনেত্রীর নয়।

পরিচালকের ক্ষমা ও পরিবর্তনের ঘোষণা

বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দীর্ঘ বিবৃতি দেন পরিচালক বুচি বাবু সানা। তিনি লেখেন, ‘একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, সিনেমার কাজ হলো মানুষকে বিনোদন দেওয়া, অনুপ্রাণিত করা এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা। কোনোভাবেই এমন কিছু করা উচিত নয়, যা কাউকে অস্বস্তিতে ফেলে বা অসম্মানিত বোধ করায়।’ দর্শকদের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পর্দায় ও পর্দার বাইরে সব সময়ই নারীদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। কোনো নারীচরিত্রকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা বা অসম্মান করা কখনোই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। যদি ছবির কোনো অংশ সে রকম অনুভূতি তৈরি করে থাকে, তাহলে আমরা সেই উদ্বেগকে সম্মান করি এবং আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

পরিচালক জানান, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করার পর সংশ্লিষ্ট দৃশ্যগুলোতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘দর্শকের সঙ্গে সংযোগের মধ্য দিয়েই সিনেমার বিকাশ ঘটে। গল্পকার হিসেবে পরিবর্তিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংবেদনশীলতার প্রতি সচেতন থাকা আমাদের দায়িত্ব। সেই কারণেই আমরা সংশ্লিষ্ট অংশগুলো নতুন করে সম্পাদনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক নারীই সম্মান, মূল্যায়ন ও মর্যাদাপূর্ণ উপস্থাপনার দাবিদার। আমরা এমন গল্প বলতে চাই, যেখানে নারীচরিত্রগুলো শক্তিশালী ও অর্থবহভাবে তুলে ধরা হবে।’

জাহ্নবীর নীরবতা ও চলমান বিতর্ক

যাঁকে ঘিরে এত আলোচনা, সেই জাহ্নবী কাপুর এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে বিতর্কের মধ্যে তাঁর অবস্থান কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনা আবারও ভারতীয় মূলধারার সিনেমায় নারীচরিত্রের উপস্থাপনাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধু জাহ্নবী নয়, দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্যিক সিনেমায় নায়িকাদের অনেক সময় গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের বদলে ‘গ্ল্যামার উপাদান’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পেড্ডিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক সেই পুরোনো প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

‘পেড্ডি’ ছবিতে রাম চরণ ও জাহ্নবী কাপুর ছাড়াও অভিনয় করেছেন জগপতি বাবু, শিব রাজকুমার, শ্রুতি হাসান ও দিব্যেন্দু শর্মা। নির্মাতাদের দাবি, মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটির বেশি রুপি আয় করেছে ছবিটি। তবে বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি নারীচরিত্রের উপস্থাপনাকে ঘিরে চলমান বিতর্কও এখন ছবিটির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।