বিএসএফের গুলিতে স্বামী নিহতের ২১ দিন পর স্ত্রীর কন্যাসন্তান জন্ম
বিএসএফের গুলিতে স্বামী নিহতের ২১ দিন পর স্ত্রীর কন্যাসন্তান জন্ম

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে স্বামী খাদেমুল ইসলামের (২৫) মৃত্যুর প্রায় ২১ দিন পর কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (২২)। স্বামীর অকালমৃত্যুর পর নবজাতকসহ দুই কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এই তরুণীর।

নবজাতকের জন্ম ও বর্তমান অবস্থা

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আমঝোল গ্রামে বাবার বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন সাবিনা। বর্তমানে নবজাতক ও চার বছর বয়সী বড় মেয়ে ইশরাত জান্নাতকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বামী খাদেমুল ইসলামের মৃত্যুর পর কয়েক দিন আগে সাবিনাকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি নিয়ে আসেন স্বজনেরা। সেখানেই তিনি দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাবিনার বক্তব্য

আজ শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, তাঁর স্বামী যদি কোনো ভুল করে থাকেন, তাহলে বিএসএফ তাঁকে আটক করে ভারতের জেলে দিতে পারত কিংবা বিজিবির কাছে হস্তান্তর করতে পারত, কিন্তু গুলি করে আহত করা হলো। রংপুরে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে তিনি মারা গেলেন। এখন দুই মেয়েকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন, কীভাবে লেখাপড়া করাবেন এবং মানুষ করবেন—সেটাই ভাবছেন।

পারিবারিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সাবিনার বাবা ভ্যানচালক মো. বদিউজ্জামান বলেন, তাঁর দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়েও বিধবা। তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ছোট মেয়ে সাবিনা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকবেন নাকি বাবার বাড়িতে—এ বিষয়ে দুই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

খাদেমুল ইসলামের বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, গতকাল শুক্রবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে নবজাতক ও মাকে দেখে এসেছেন এবং কিছুদিন পর শ্বশুরবাড়ি আসার কথা বলে এসেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

আমজাদ হোসেনের ভাষ্য, গত ১৪ মে ভোরে খাদেমুল ইসলাম সীমান্তসংলগ্ন একটি নদীর ঘাটে মাছ ধরতে গেলে বিএসএফের গুলিতে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে রংপুরে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, পরদিন ১৫ মে প্রথম আলোর জাতীয় সংস্করণের শেষ পাতায় ‘হাতীবান্ধা সীমান্ত: বিএসএফের গুলিতে যুবক আহত, পরে মৃত্যু’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর আগে ১৪ মে প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণেও খবরটি প্রকাশিত হয়েছিল।