মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। আইএমডিবি সমালোচকদের কাছ থেকে খুব একটা সাড়া না পেলেও, মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রায় ৩৯.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে। গত ২৪ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া এই মিউজিক্যাল বায়োপিকটি এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৭৮৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই এটি ৮০০ মিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করবে।
আন্তর্জাতিক বাজার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
গত সপ্তাহান্তে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ছবিটি আরও ২ কোটি ৮৫ লাখ ডলার আয় করেছে। বর্তমানে এর বিদেশি আয় ৪৬৮ মিলিয়ন ডলার এবং উত্তর আমেরিকায় আয় ৩১৯ মিলিয়ন ডলার। জাপানে এখনো ছবিটি মুক্তি পায়নি, যা বিশ্লেষকদের আশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, শেষ পর্যন্ত এটি ২০১৮ সালের ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র ৯১১ মিলিয়ন ডলারের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আয় করা মিউজিক্যাল বায়োপিকে পরিণত হবে।
চরিত্র ও পরিবেশনা
ছবিতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। আন্তর্জাতিকভাবে ছবিটি পরিবেশন করছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে লায়নসগেট।
অন্যান্য সিনেমার অবস্থান
ডিজনির কমেডি সিক্যুয়েল ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’ বিশ্বব্যাপী ৬০০ মিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে ছবিটি বিদেশ থেকে আরও ২ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করেছে। উত্তর আমেরিকায় এর আয় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এটি আরও বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে বিদেশে আয় ৪০৮ মিলিয়ন ডলার।
স্টার ওয়ারসের নতুন সিনেমা
চলতি সপ্তাহের বড় মুক্তি ছিল ডিজনির ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’। এটি ৫১টি আন্তর্জাতিক অঞ্চল থেকে ৬৪ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সবচেয়ে বড় বাজার ছিল যুক্তরাজ্য, যেখানে আয় ৭.১ মিলিয়ন ডলার। জার্মানিতে ৬.৫ মিলিয়ন, চীনে ৫.৩ মিলিয়ন এবং জাপানে ৪.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে ছবিটি।
উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির ওপেনিং আরও শক্তিশালী ছিল। সপ্তাহান্তে সেখানে আয় করেছে ৮২ মিলিয়ন ডলার এবং মেমোরিয়াল ডে ছুটিসহ চার দিনে আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০২ মিলিয়ন ডলার। ফলে বিশ্বব্যাপী তিন দিনে ছবিটির আয় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং চার দিনে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৬৫ মিলিয়ন ডলার।
এই আয় প্রায় সমান ২০১৮ সালের ‘সলো: আ স্টার ওয়ারস স্টোরি’র শুরুর সঙ্গে। তবে সেই সিনেমা শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছিল। প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেটের বিপরীতে ছবিটি বিশ্বব্যাপী আয় করেছিল মাত্র ৩৯২ মিলিয়ন ডলার, যা প্রথম ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমা হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে লোকসান গুনেছিল।
তবে ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’ নিয়ে পরিস্থিতি আপাতত ভিন্ন। সমালোচক ও দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে ছবিটি। এ ছাড়া এর নির্মাণ ব্যয়ও তুলনামূলক কম—প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন ডলার। ফলে দ্বিতীয় সপ্তাহের আয়ই ঠিক করে দেবে, এটি শুধু সিরিজ–ভক্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি দীর্ঘ সময় প্রেক্ষাগৃহে টিকে যাবে।
নির্মাণ ও অভিনয়
ছবিটি পরিচালনা করেছেন জন ফাভরো। তারকাবহুল এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন পেড্রো প্যাসকল, জেরেমি অ্যালেন হোয়াইট ও সিগুর্নি ওয়েভার। গল্পে দেখা যায়, ডিন ডিজারিন ও তার ছোট শিষ্য গ্রোগু নতুন মিশনে বের হয়; কিন্তু কাজটা সহজ নয়, পদে পদে তাদের জন্য অপেক্ষা করে নতুন বিপদ। তবে এসব চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করতে গিয়ে ডিন ও গ্রোগুর সম্পর্ক আরও মজবুত হয়।
ডিজনির জন্য ছবিটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০১৯ সালের ‘স্টার ওয়ারস: দ্য রাইজ অব স্কাইওয়াকার’ -এর পর এটিই প্রথম ‘স্টার ওয়ার্স’ চলচ্চিত্র।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আগামী বছর বড় পর্দায় ফিরছে ‘স্টার ওয়ার্স’-এর আরেক নতুন অধ্যায়, ‘স্টার ওয়ারস: স্টারফাইটার’ নামের সেই সিনেমা পরিচালনা করবেন শন লেভি, এতে অভিনয় করবেন রায়ান গসলিং।



