আইনি বাধা পেরিয়ে ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে ১৬টি হলে। তবে খবরে জানা গেছে, চলচ্চিত্রটিতে তেমন দর্শক সাড়া মিলছেনা। চলচ্চিত্রটি নিয়ে নেতিবাচক ট্রল ও প্রচারণার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়লেন নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর ও কুমিল্লার কে সিনেপ্লেক্সের হল ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম।
হল ম্যানেজারের প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার একটি টিকিটও বিক্রি হয়নি—গণমাধ্যমে দেওয়া এমন বক্তব্যকে নিজেই খারিজ করে দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েছেন আমিনুল। তিনি বলেন, “আপনারা সবাই এই সিনেমার পেছনেই লাগলেন কেন? অন্য সিনেমা নিয়ে লিখুন।” নেতিবাচক তথ্য ব্যবসায়িকভাবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে জানিয়ে মিন্টু বলেন, “বৃষ্টিজনিত কারণে দর্শক হলে আসতে পারেনি। আমি এখন ঢাকায় আছি। যতদূর জানি, সিনেমাটি এখন ভালো চলছে।” কোনো শো হাউজফুল হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এমন দাবি করব না।”
নির্মাতার বক্তব্য
এদিকে নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর এ প্রসঙ্গে বাংলাট্রিবিউনকে বলেন, “চলচ্চিত্রটি নির্মাণে আমার কোটি টাকার ওপরে খরচ হয়েছে। এখনও প্রচারণায় খরচ হচ্ছে। অপপ্রচারের কারণে আমি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। হলগুলোর আশপাশে গরুর হাট বসেছে, মাইকিং চলছে। তাই সকাল ও দুপুরের শো বন্ধ রাখতে বলেছি। পরিবেশ না থাকলে সিনেমা চলবে কীভাবে? রাতের শো চলছে। শুক্রবার কুমিল্লায় বৃষ্টি ছিল। তাই দর্শক হলে আসতে পারেনি।” হাসান জাহাঙ্গীর আরও বলেন, “আমি এখনও আশা ছাড়িনি। এই সিনেমা দেশের বাইরে যাবে। সবকিছু হিসাব-নিকাশ করে পরে জানাতে পারব, লাভ হলো না ক্ষতি হলো। তবে যারা এ ছবির বিরুদ্ধে কাজ করেছে, তারা ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি করেছে।”
সিনেমার পটভূমি
এর আগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের অনুমতিক্রমে ১৫ মে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তির ঘোষণা দেন নির্মাতা। ঘোষণার পর মৌসুমীর স্বামী ওমর সানী নিজের বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানান। দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাতা-অভিনেতা হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি প্রজেক্টে কাজ করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। শুরুতে নাটক হিসেবে নির্মাণ হলেও এটি সিনেমা হিসেবে সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডে আবেদন করেন নির্মাতা।
বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অভিনয়শিল্পী মৌসুমী ও জেবা জান্নাতের আপত্তির পর সিনেমাটির সেন্সর বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেন হাসান জাহাঙ্গীর। তার প্রেক্ষিতে ২১ মে হাইকোর্টে বিচারপতি হাবিবুল গণির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সিনেমার সেন্সর বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন।



