ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী: বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তা উন্মোচনের দিন, সংস্কৃতির নির্বিঘ্নতা চান
ছায়ানট সভাপতি: বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তা উন্মোচনের দিন

ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী: বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তা উন্মোচনের দিন, সংস্কৃতির নির্বিঘ্নতা চান

ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেছেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তা উন্মোচনের এক বিশেষ দিন। বিগত ছয় দশকের মতো এই দিনে আমরা সব গ্লানি ও জ্বরা মুছে ফেলে আসা বছরকে ফিরে দেখি। তাই সংস্কৃতির সব প্রকাশ যেন নির্বিঘ্ন হয়—এটাই তার প্রত্যাশা।

রমনার বটমূলে প্রভাতি অনুষ্ঠানে বক্তব্য

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর রমনার বটমূলে বাংলা নববর্ষ বরণে ছায়ানটের প্রভাতি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সারওয়ার আলী স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, অপশক্তি আবহমান বাংলা গানকে তার সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার থেকে শিকড় বিচ্ছিন্ন করতে চায়। তিনি বলেন, "আমরা শুনতে চাই সমাজের অভয়বাণী— সবাই যেন নির্ভয়ে গাইতে পারে।"

সংস্কৃতি ও সহিংসতার স্মৃতি

তিনি বলেন, পয়লা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতি তথা জাতিসত্তা উন্মোচনের এক বিশেষ দিন। গত বছরেও রমনায় নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়েছে নববর্ষের অনুষ্ঠান। ১৬ ডিসেম্বর উন্মুক্ত মঞ্চে হলো বিজয় দিবসের আয়োজন। তার দুই দিন পরই গভীর রাতে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে ভাঙা হারমোনিয়াম, তবলা, তানপুরা এবং নালন্দার ছিন্নবিচ্ছিন্ন শিশুপুস্তকের দুঃসহ স্মৃতি। সেই রাতেই অগ্নিসংযোগ করা হয় দুই শীর্ষ সংবাদপত্র ভবনে। পরদিন আক্রান্ত হয় উদীচী। এই সহিংস ঘটনাবলির কদিন আগেই অপদস্থ হয়েছেন বাউলশিল্পীরা। এই বটমূলেই ২০০১ সালে ঘটে ভয়াবহ অঘটন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাতৃভূমির স্বপ্ন ও বিশ্বশান্তির কামনা

ছায়ানট সভাপতি বলেন, এমন এক মাতৃভূমির স্বপ্ন দেখি: "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির/ জ্ঞান যেথা মুক্ত, গৃহের প্রাচীর।" তিনি আরও বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি নিগ্রহে আজ পারস্য সভ্যতাও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে সবাই কামনা করে বিশ্বশান্তি। শুনতে চাই, সমাজের অভয়বাণী— যেন সংবাদকর্মীরা নির্ভয়ে প্রকৃত মত প্রকাশ করতে পারেন; সবাই যেন নির্ভয়ে গাইতে পারি; যেন সংস্কৃতির সব প্রকাশ নির্বিঘ্ন হয়—বাঙালি শঙ্কামুক্ত জীবনযাপন করে।

অনুষ্ঠানের সময়সূচি

এর আগে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজন শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ৮টা ২৫ মিনিটে অনুষ্ঠান শেষ হয়। সারওয়ার আলীর বক্তব্যে বৈশাখের তাৎপর্য ও সংস্কৃতির নিরাপত্তার গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।