ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় বাউল শিল্পী আবুল সরকারের জামিন মঞ্জুর
বাউল আবুল সরকারের জামিন মঞ্জুর, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলা

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় বাউল শিল্পী আবুল সরকারের জামিন মঞ্জুর

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আতাওয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সাগির হোসেনের বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়। আদালত একইসঙ্গে এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেছে। শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সাজল, আর রাষ্ট্রের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি।

মামলার পটভূমি ও গ্রেপ্তার

এর আগে, ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় ‘খালা পাগলির মেলা’তে পালা গান পরিবেশনের সময় আবুল সরকার ধর্মীয়ভাবে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে তার মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ১৯ নভেম্বর রাতে মানিকগঞ্জ ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের (ডিবি) একটি দল মাদারীপুরের একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান থেকে তাকে আটক করে। পরের দিন সকালে তাকে মানিকগঞ্জ ডিবি অফিসে নিয়ে আসা হয়।

মামলা দায়ের ও কারাগারে প্রেরণ

সেই দিনই ঘিওর থানায় মোফতি মো. আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি নিন্দা বা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়। পরে আবুল সরকার হাইকোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করেন, যা এখন মঞ্জুর হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনি প্রক্রিয়া

হাইকোর্টের বেঞ্চ শুনানি শেষে আবুল সরকারকে ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করে। এ সিদ্ধান্তে আদালত মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন শিল্পীর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দিকটি বিবেচনায় নিয়েছে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সাজল বলেন, “আদালতের এই সিদ্ধান্ত আইনের শাসন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে।” অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুলতানা আক্তার রুবি মামলার তদন্ত অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই শিল্পীর জামিন মঞ্জুরকে স্বাগত জানালেও, কিছু মহল ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে, মামলার তদন্ত সক্রিয়ভাবে চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।