ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পরদিনই জামিন পেয়েছেন তরুণ গায়ক আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তু। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে এই জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আসামির পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন, অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন জামিনের বিরোধিতা করেন।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও শর্তাবলি
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার জানান, আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে ৫০০ টাকা মুচলেকার শর্তে জাহিদ অন্তুকে আগামি ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন। এই শুনানিতে মামলার বাদীও আদালতে হাজির হয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন বলে তাহমিনা আক্তার উল্লেখ করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আসামির আইনজীবী পূর্বেই জামিন আবেদন করেছিলেন এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে বৃহস্পতিবারের জন্য শুনানি নির্ধারণ করেছিলেন।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে গিটার ক্লাসের মাধ্যমে জাহিদ অন্তুর সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও পরে তা ভেঙে যায় এবং যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একটি পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে জাহিদ তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করে তাকে বাসায় আসতে বলেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় ছাত্রীটি জাহিদের গুলশানের বাসায় যান, যেখানে তাকে যৌন নিপীড়ন ও মারধরের অভিযোগে জাহিদ অন্তুকে দায়ী করা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, ছাত্রীটি বাধা দিলে জাহিদ তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে তিনি কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে স্বজনদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
গ্রেফতার ও আইনি প্রক্রিয়া
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই ছাত্রী মঙ্গলবার রাতে মামলা দায়ের করার পর, বুধবার সকালে গুলশান এভিনিউ থেকে পুলিশ জাহিদ অন্তুকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় আইনি লড়াই চলছে, এবং আদালতের জামিন সিদ্ধান্তে এখনো মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রসিকিউশন ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা মামলার তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।



