নোবেলের জামিন বাতিল, কারাগারে প্রেরণের আদেশ
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আজ বৃহস্পতিবার সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীর কাছ থেকে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এই আদেশ জারি হয়েছে।
আদালতের শুনানি ও সিদ্ধান্ত
বাদীপক্ষের আইনজীবী নাসিদুস জামান নিশান (প্রিন্স) এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এ রায় দেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালত বাদীর সঙ্গে আসামির আপসের শর্তে নোবেলের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। তবে, সেই শর্ত ভঙ্গ করায় এবার তাঁর জামিন বাতিল করা হয়েছে। শুনানির সময় নোবেল আদালতে হাজির ছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী নিশান বলেন, "আসামি জামিনের আপসের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। বিয়ে করার কথা থাকলেও তিনি বাদীকে বিয়ে করেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি। এ জন্য তাঁর জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।" শুনানি শেষে আদালত জামিন বাতিল করে নোবেলকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মামলার পটভূমি ও তদন্ত
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নোবেল বাদীর কাছ থেকে মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা নেন এবং পরে তা ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। গত বছরের ১৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্তের নির্দেশ দেন।
পিবিআই তদন্ত শেষে গত ৭ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে, যাতে বাদীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আদালত নোবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অন্য আসামিরা হলেন নোবেলের স্ত্রী ইসরাত জাহান (প্রিয়া), তাঁর মা নাজমা হোসেন ও সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক।
পূর্ববর্তী মামলা ও গ্রেপ্তার
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে পুলিশ নোবেলকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে, তিনি ‘ধর্ষণ ও মারধর’ করার অভিযোগে ডেমরা থানার একটি মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ মে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে ওই মামলার বাদীকে কারাগারে বিয়ে করার পর ২৪ জুন তিনি জামিন পান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, "আসামি আরেকটি মামলায়ও আপসের শর্তে জামিন নিয়েছিলেন। সেই শর্ত অনুযায়ী তিনি ওই মামলার বাদীকে বিয়ে করেছেন। তাই আর বিয়ে করতে পারবেন না বলে আদালতকে জানিয়েছেন।" এই পরিস্থিতিতে বর্তমান মামলায় আপসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় নোবেলের আইনি জটিলতা বেড়ে চলেছে, এবং আদালতের কঠোর সিদ্ধান্তে তাঁর কারাগারে প্রেরণ নিশ্চিত হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের বিষয়েও তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



