দিনাজপুরের সাবেক এমপি শিবলী সাদিকের স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমুর আত্মহত্যার চেষ্টা
দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শিবলী সাদিকের স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমু ওরফে শিমলা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার রাত ৮টার দিকে খাদিজা মল্লিক সীমুকে জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। এর আগে বিকালে তিনি হাকিমপুর শহরে তার বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন করতেন।
চিকিৎসা অবস্থা
জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসা আল আশারী জানান, রাত সোয়া ৮টার দিকে খাদিজা মল্লিক সীমুকে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তাকে নিবিড় পরিচর্যায় রেখে চিকিৎসা চলছে। তিনি স্ট্যাবল পর্যায়ে আছেন।’ চিকিৎসকরা তার অবস্থার উপর কড়া নজর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে মর্মস্পর্শী বার্তা
খাদিজা মল্লিক সীমু তার ফেসবুক পেজ ‘খাদিজা সীমু’তে একটি মর্মস্পর্শী স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি যথেষ্ট স্ট্রং ছিলাম! আল্লাহর প্রতি আমার অনেক ভরসা রয়েছে! কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্রামের প্রয়োজন। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে আমার সঙ্গে হওয়া অন্যায় জুলুম আমি আর নিতে পারছি না। এই জীবন এভাবে চলতে পারে না। বিয়ের ২-৩ মাস পর থেকে এসব সহ্য করতে করতে আমি আজ ক্লান্ত, আমি শান্তিতে ঘুমাতে চাই।’
শিবলী সাদিকের ব্যক্তিগত জীবন
শিবলী সাদিক আওয়ামী লীগ মনোনীত দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমু হাকিমপুর উপজেলা শহরের সিপি রোড এলাকায় বাবা বাবু মল্লিকের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ২০১৯ সালের ৮ জুন তাদের বিয়ে হয়।
এর আগে, ২০১১ সালে শিবলী সাদিকের সঙ্গে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তবে পারিবারিক বনিবনা না হওয়ার কারণে ২০১৬ সালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে সমঝোতার মাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদ হয়। পরে ২০১৯ সালে শিবলী সাদিক পারিবারিকভাবে খাদিজাকে বিয়ে করেন।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
খাদিজার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিক ও মানসিক চাপে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি প্রতি রাতে ঘুমের ওষুধ সেবন করতেন, কিন্তু সোমবার তিনি মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবন করেন। পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং পারিবারিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরছেন। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।



