কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে নিহত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম
কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে নিহত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক

কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে নিহত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক

কক্সবাজার শহরে এক মর্মান্তিক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, যেখানে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি তদন্ত

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের সমুদ্রসৈকত–সংলগ্ন ঝাউবাগানের ভেতরের কবিতা চত্বর এলাকায় খোরশেদ আলমকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুই যুবক হঠাৎ করে তার ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন এবং ‘কী আছে, দিয়ে দাও’ বলে চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তারা খোরশেদের পেট, পা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন জানান, আহত অবস্থায় খোরশেদ আলমকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য নিহত ব্যক্তির লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতের ঘনিষ্ঠজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতের পরিচয় ও গ্রেফতার

খোরশেদ আলম কক্সবাজার পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুলুলঘোনা এলাকার শাহ আলমের ছেলে ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন, যদিও তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদপদবি ছিল না। ছুরিকাঘাতের ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা তারিন নামে এক তরুণীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তারিনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত, যা এই ঘটনাকে আরও জটিল ও রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও সমাবেশ

খোরশেদ আলম নিহত হওয়ার খবর পেয়ে দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে কক্সবাজার শহরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেন। তারা শহর ঘুরে পুরোনো শহীদ মিনার এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে, যেখানে জেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন। সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ছাত্রদলকর্মী খোরশেদ আলমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সৈকতসহ শহরজুড়ে কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেলেও পুলিশ নির্বিকার।’

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান যোগ করেন, ‘কবিতা চত্বরসহ সৈকত এলাকায় এখন লাখো পর্যটকের সমাগম চলছে। অথচ কবিতা চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল নেই। খোরশেদ হত্যাকাণ্ড শান্ত পর্যটন শহরের জন্য অশনিসংকেত।’ জেলা এনসিপির মুখপাত্র মো. খালেদ বিন সাঈদ পুলিশের নির্লিপ্ততার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘হয় দ্রুত খোরশেদ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করুন, নয়তো বদলি হয়ে চলে যান। কক্সবাজারে আপনাদের প্রয়োজন নেই।’

স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া

কক্সবাজার পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ার সমাবেশে উপস্থিত হয়ে খোরশেদ আলম হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। এই ঘটনা কক্সবাজারের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

পুলিশ এখনও ঘটনার সঠিক কারণ ও হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ভীতির পরিবেশ বিরাজ করছে। এই হত্যাকাণ্ড কক্সবাজারে অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতার একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে উঠছে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে।