রাজশাহীতে রিকশাচালকের ছিনতাই: 'আমাদের মা-বোন আছে' বলে আশ্বস্ত করে আক্রমণ
রাজশাহীতে রিকশাচালকের ছিনতাই, নারী প্রাণে বাঁচেন

রাজশাহীতে রিকশাচালকের ছিনতাই: 'আমাদের মা-বোন আছে' বলে আশ্বস্ত করে আক্রমণ

রাজশাহী নগরের ভদ্রা ফ্লাইওভারের নিচে গভীর রাতে এক নারী রিকশাচালকের ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার দিবাগত রাতে, যখন রাত প্রায় তিনটার সময় ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই নারী রিকশাযোগে যাত্রা করেছিলেন। রিকশাচালক শুরুতে 'আমাদের মা-বোন আছে' বলে তাঁকে আশ্বস্ত করলেও পরে ছিনতাইকারীর রূপ নেন এবং নারীর গলায় চাকু ধরেন।

ভয়ের মধ্যে যাত্রা এবং বিশ্বাসঘাতকতা

ভুক্তভোগী রিপা বেগম (৩৭) রাজশাহী নগরের কিসমত কুখণ্ডী বুধপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, সৌদি আরবে কাজ করে আট মাস আগে দেশে ফিরেছেন এবং কাজ না পাওয়ায় আবার বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাই ঢাকা থেকে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করে পাসপোর্ট-ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে রাতের বাসে রাজশাহী আসেন। রাত তিনটার দিকে বাস থেকে নেমে রিকশাযোগে বাড়ি ফেরার সময় রিকশাচালকের আচরণে সন্দেহ হয় তাঁর।

রিপা বেগম বর্ণনা দেন, 'রিকশাচালক ভদ্রা ফ্লাইওভারের কাছে গিয়ে রিকশাটা পিলারের পাশে অন্ধকারে নিয়ে যান। তারপর আমার গলায় চাকু ধরেন। আমি বলি, আমার টাকাটুকু বেশি নেই, কাগজগুলো লিয়েন না। তখন তিনি গাল দেন এবং বলেন, 'তোকে এখানে শেষ করে ফেলব।' তিনি আরও বলেন, রিকশাচালক তাঁর মাথার চুল টেনে ধরে ফ্লাইওভারের পিলারের গোড়ায় উঠতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তিনি ছিনতাইকারীর পা ধরে টান দিলে তিনি পড়ে যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাণ বাঁচাতে দৌড় এবং পুলিশের সহায়তা

ছিনতাইকারী পড়ে যাওয়ার পর রিপা বেগম চিৎকার দিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন এবং সামনে টহল পুলিশের গাড়ি পান। পুলিশকে সব খুলে বলার পর তাঁর ব্যাগ উদ্ধার করে দেওয়া হয়, কিন্তু টাকাপয়সা ও কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'টহল দলের সামনে ওই নারী পড়েছিলেন, আমরা ব্যাগ উদ্ধার করে দিয়েছি। জায়গাটা চন্দ্রিমা থানার মধ্যে পড়তে পারে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলামও ঘটনা শুনেছেন বলে জানান, তবে কোনো অভিযোগ পাননি। রিপা বেগম বলেছেন, মামলা লড়তে টাকা লাগবে এবং তিনি দেশে থাকতে পারছেন না, তাই থানায় অভিযোগ দেননি। তিনি বলেন, 'বিদেশ থেকে আনা টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করেছি, নতুন করে যেতে দুই–আড়াই লাখ টাকা লাগবে। টাকার অভাবে আমার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি।'

নারী নিরাপত্তা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট

এই ঘটনা রাজশাহীতে নারী নিরাপত্তার গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। রিপা বেগমের মতো অনেক নারী অর্থনৈতিক সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন। তাঁর পরিবার এক ছেলে, এক মেয়ে ও মাকে নিয়ে, স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। কাজ না পাওয়ায় তিনি আবার সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যা তাঁর জীবনযাত্রার কষ্টের প্রতিফলন।

ঘটনাস্থলে পাশের বাড়ি থেকে এক নারী চিৎকার শুনে সাড়া দিলেও রিকশাচালক বলেছিল সেখানেই তাঁর বাড়ি, তাই রিপা বেগম ভয়ে তাঁর কাছে যাননি। এই ঘটনা সমাজে নারীদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও নির্দেশ করে।

রাজশাহী পুলিশ বলেছে, তারা তদন্ত করবে, কিন্তু অভিযোগ না পাওয়ায় কার্যক্রম সীমিত। নাগরিকদের সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ এই ধরনের অপরাধ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।