রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকীর দুই সহযোগীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই নিয়ে এ মামলায় তৃতীয় দফায় রিমান্ডে গেলেন দুই আসামি।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার (৮ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন— তারিক সিদ্দিকীর ড্রাইভার মো. চান মিয়া ও কেয়ারটেকার মো. মহিদুল ইসলাম। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. শাহ আলম রিমান্ডের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ৫ মে দ্বিতীয় দফায় এই মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর গত ১ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত এই মামলায় চার দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে আংশিক ও অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। প্রদত্ত আংশিক ও অসম্পূর্ণ তথ্য যাচাই-বাছাই পূর্বক প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টার বিষয়ে তথা দিয়েছেন। তাদের দেওয়া কিছু তথ্যের ভিত্তিতে অত্র মামলার ঘটনায় জড়িত আর্থিক সহায়তাকারী ও গ্রহণকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়। উক্ত জড়িত আসামিরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নাই। তাদের সঙ্গে জড়িত আসামিদের কাছ থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার পুনরায় সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।
আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে তিনটার দিকে রমনা থানাধীন রুপায়ণ টাওয়ারের সামনে মিছিল করে। সরকারবিরোধী বিভিন্ন প্রকার শ্লোগান দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করা, সরকার তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে অপপ্রচার করে। পরে সোয়া তিনটায় ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পলায়নের চেষ্টা করে। কয়েকজনকে সেখান থেকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় ওই দিনই রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ।



