যশোরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ পৃথক দুটি স্থানে মিছিল করায় ৮ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গত দুই দিনে এসব নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
শার্শায় ঝটিকা মিছিল
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শার্শা উপজেলা শাখার উদ্যোগে একটি ঝটিকা মিছিল বের হয়। বেনাপোল পৌর গেট এলাকায় হঠাৎ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দিলে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মিছিলটি অল্প সময় স্থায়ী হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির আগেই অংশগ্রহণকারীরা সরে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
বেনাপোল থানার ওসির বক্তব্য
এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালায়। এ সময় সন্দেহজনক হওয়ায় দুই জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাঘারপাড়ায় আরেক মিছিল
এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকালে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের রোস্তমপুর এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের বাঘারপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিছিলে অংশ নেওয়া ৬ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রস্তুতি ও আটক
বাঘারপাড়া থানার এসআই জাকির হোসেন জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। সে অনুযায়ী পুলিশ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। বিকাল ৪টার দিকে আনুমানিক ৬ থেকে ৭টি মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন রোস্তমপুর এলাকায় এসে মিছিল শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করে। এ সময় তারা শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফরাজীর নামে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
আটকদের তালিকা
এ সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহজনকভাবে ৬ জনকে আটক করে। তারা হলেন- বরিশালের জিহাদ হাওলাদার (১৯), যশোর কোতোয়ালির ইয়াসিন আরাফাত নিরব (১৬), বাঘারপাড়ার ভিটাবল্যার প্রিন্স (১৮), শাহারিয়ার আহমেদ স্বাধীন (১৭), তনয় (১৫), বাঘারপাড়ার তামিম ইকবাল (১৫)।
মামলা ও কারাগার
বাঘারপাড়া থানা ওসি শাহাজালাল আলম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



