ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে
সৌদি আরবে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত বাংলাদেশি কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
মন্ত্রীর উপস্থিতি ও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন। তিনি এ সময় বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এখন পর্যন্ত সাত জন বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর খবর আমাদের কাছে এসেছে। এর মধ্যে চার জনের মরদেহ আমরা ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছি। এক জনের মরদেহ পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে।"
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে দাফনকার্যের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, আর্থিক সহায়তা হিসেবে অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
বিমানবন্দরে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তাগণ
এ সময় বিমানবন্দরে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আলম সিয়াম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার এবং ওয়েলফেয়ার) দেওয়ান আলী আশরাফ এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. এ টি এম মাহবুব-উল করিম।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
গত ৮ মার্চ ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় সরাসরি আঘাত হানলে আব্দুল্লাহ আল মামুন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পর তাকে রিয়াদে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামে।
এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সরকারি পর্যায় থেকে দ্রুত পদক্ষেপ ও সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।



