আফগানিস্তানের প্রথম নভোচারী ও মহাকাশে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতকারী আবদুল আহাদ মোমান্ড জার্মানিতে মারা গেছেন। ইউরেশিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৬৭ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
মৃত্যুর বিবরণ
মোমান্ড ২১ জুন জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে মারা যান। ১৯৯২ সালে আফগানিস্তান ছেড়ে আসার পর তিনি সপরিবারে সেখানে বসবাস করছিলেন। পরিবারের এক সদস্য জানান, তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন।
ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান
সাবেক আফগান বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান চালক মোমান্ড ১৯৮৮ সালের আগস্টে সোভিয়েত ইউনিয়নের মির স্পেস স্টেশনে সয়ুজ মহাকাশযানে করে যাত্রা করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তিনি প্রথম আফগান হিসেবে মহাকাশে যান। নয় দিনের এই অভিযানে তিনি একটি কোরআন携带 করেন এবং কক্ষপথে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশ থেকে পশতু ভাষায় কথা বলেন।
জীবনের প্রথম দিক
১৯৫৯ সালে গজনি প্রদেশে জন্মগ্রহণকারী মোমান্ড সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে বিমান চালনা ও মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি আফগান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন এবং গ্যাগারিন বিমান বাহিনী একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন। সোভিয়েত মহাকাশ কর্মসূচির জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মোমান্ডের অভিযানটি এমন এক সময়ে হয়েছিল যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করছিল। এই অভিযানকে মস্কোর কাবুলে সোভিয়েত-সমর্থিত সরকারের প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হয়েছিল। প্রকাশনাটি বলেছে, এই উড্ডয়ন শীতল যুদ্ধের সময় কূটনীতি ও রাজনৈতিক বার্তার হাতিয়ার হিসেবে মহাকাশ অভিযানের ব্যবহারকে প্রতিফলিত করে।
জরুরি অবস্থা
অভিযানটি একটি গুরুতর উড্ডয়ন জরুরি অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিল। ফেরার পথে মোমান্ড একটি কম্পিউটার ত্রুটি শনাক্ত করেন যা মহাকাশযানটির জ্বালানি ও ব্যাটারি ফেলে দিতে পারত। তিনি সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন, যা মহাকাশ ইতিহাসবিদ জেমস ওবার্গের মতে সম্ভাব্য মারাত্মক পরিণতি এড়িয়েছিল।
পরবর্তী জীবন
পৃথিবীতে ফিরে আসার পর মোমান্ডকে সোভিয়েত ইউনিয়নের হিরো উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং পরে তিনি আফগানিস্তানের বিমান চলাচল ও পর্যটন উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে সোভিয়েত-সমর্থিত সরকারের পতনের পর তিনি আফগানিস্তান ত্যাগ করে জার্মানিতে বসতি স্থাপন করেন। প্রথমে তিনি স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কাজ করেন এবং পরে বেসরকারি খাতে হিসাবরক্ষকসহ বিভিন্ন চাকরি করেন।
উপসংহার
তার ঐতিহাসিক সাফল্য সত্ত্বেও, মোমান্ড নির্বাসনে একটি ব্যক্তিগত জীবনযাপন করেন এবং নিজ দেশে তুলনামূলকভাবে অজ্ঞাত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



