জেফরি এপস্টিনের নথি নিয়ে নিউইয়র্কে গ্রন্থাগার উন্মুক্ত
জেফরি এপস্টিনের নথি নিয়ে নিউইয়র্কে গ্রন্থাগার

চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার নথিপত্র নিয়ে নিউইয়র্কে একটি গ্রন্থাগার উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৩ হাজার ৭০০টির বেশি খণ্ডে সংকলিত এসব রেকর্ড ৮ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত ট্রাইবেকা এলাকার একটি নামহীন গ্যালারিতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকছে।

উদ্যোগের পেছনে সংস্থা

মার্কিন সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর প্রাইমারি ফ্যাক্টস’ এ উদ্যোগ নিয়েছে। ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অ্যান্ড জেফরি এপস্টিন মেমোরিয়াল রিডিং রুম’ নামের এ পাঠাগারে এপস্টিন ও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আলোচিত সম্পর্কের একটি ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রকল্পের লক্ষ্য

প্রকল্পের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘এই রিডিং রুম দুর্নীতি, ধামাচাপা দেওয়া এবং অপরাধের এক অনস্বীকার্য ভৌত দলিল। ট্রাম্প যেসব আংশিক সম্পাদিত এপস্টিন ফাইল থেকে আমাদের নজর সরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, এখানে সেই ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা, ৩ হাজার ৪৩৭টি খণ্ড এবং ১৭ হাজার পাউন্ড ওজনের নথি রয়েছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওয়েবসাইটে আরও উল্লেখ করা হয়, এপস্টিন ও তাঁর সহযোগীদের অপরাধ এবং তা ধামাচাপা দিতে ট্রাম্পের মরিয়া চেষ্টার দিকে জনদৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে সমর্থন দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

গ্রন্থাগারের অবস্থান ও নিরাপত্তা

নিরাপত্তার কারণে গ্রন্থাগারের সঠিক অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। তবে নিশ্চিত দর্শনার্থীরা ই-মেইল ও খুদে বার্তার মাধ্যমে পূর্ণ ঠিকানা জানতে পারবেন। প্রদর্শনীর প্রধান আয়োজক ডেভিড গ্যারেট বলেন, ‘এ কক্ষে থাকা তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধগুলোর একটির প্রমাণ। আমি আশা করি, এটি দেখে মানুষ উপলব্ধি করবে যে যুক্তরাষ্ট্রে আইনের শাসন আছে এবং তারা চাইলে অপরাধের জবাবদিহি দাবি করতে পারে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এপস্টিনের অপরাধ ও মৃত্যু

এপস্টিন ছিলেন একজন প্রভাবশালী অর্থদাতা, যাঁর বিরুদ্ধে ২০০০-এর দশকের শুরুতে ম্যানহাটন ও পাম বিচের বাসভবনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। তাঁর বেশির ভাগ অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে কেনা ৭২ একরের ‘লিটল সেন্ট জেমস’ দ্বীপে।

২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে নিজের কক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুকে ‘গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়।