দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অচলাবস্থা নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ শিথিল করার বিনিময়ে ইরান ধাপে ধাপে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া এই খবর জানিয়েছে।
পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের জবাব
প্রতিবেদনে এক পাকিস্তানি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে ৯ দফা শর্তের প্রস্তাব দিয়েছিল, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের মাধ্যমে সেটির জবাব পাঠাতে পারে ইরান। ওই সূত্রটি আরও জানায়, ইরানি পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং কোনও ধরনের বাধা ছাড়াই এই প্রক্রিয়া চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রত্যাশা
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে একটি ‘দ্রুত সাড়া’ প্রত্যাশা করছেন। বর্তমানে আলোচনা চলমান এবং যেকোনও সময় চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকের সম্ভাবনা
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে মাত্র এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কাছাকাছি রয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হবে। এর পাশাপাশি দুই দেশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেবে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এই প্রতিবেদনকে ‘বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন কোনও লিখিত বার্তা বিনিময় করেনি। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার জানিয়েছেন, ইরান এখনও মার্কিন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে এবং মূল্যায়ন শেষ হলে পাকিস্তানের কাছে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে।
পটভূমি: ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলা ও যুদ্ধবিরতি
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি, শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিক নিহত হন। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে।
পরবর্তী আলোচনা ও বর্তমান অবস্থা
পরে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলোচনা চললেও কোনও চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ওই প্রণালিতে নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে ১৪ দফার একটি পাল্টা প্রস্তাব পাঠায় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে উত্তর পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে তেহরান।
সূত্র: সিনহুয়া



