ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করতে চান ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক নীতিনির্ধারকেরা। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। বুধবার (৬ মে) ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (আইপিবিসি) জানিয়েছে, তেলআবিবের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা কিংবা সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর কোনো ফল বয়ে আনবে না। তাদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
নতুন হামলার পরিকল্পনা
প্রতিবেদনে বলা হয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল ইরানের মূল ভূখণ্ডে পুনরায় হামলা চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি নতুন তালিকাও তৈরি করেছেন। জানা গেছে, ওই তালিকায় ইরানের বেশ কয়েকটি অপরিশোধিত তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা
আইপিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো বার্তার মাধ্যমে ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে যে, তারা ইরানের ওপর আবারও হামলা চালানোর পথ খুঁজছে এবং এ বিষয়ে সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছে। ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তাই সামরিক পদক্ষেপই একমাত্র কার্যকর পন্থা হতে পারে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, যা ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে ইসরায়েল মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেলে তারা এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।



