ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সংঘাত শিগগিরই সমাপ্তির দিকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ সাফল্যের সঙ্গে এগোচ্ছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত শেষের দিকে মোড় নিচ্ছে।
লাস ভেগাসে ট্রাম্পের বক্তব্য
নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাস শহরে এক জনসমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যুদ্ধের অগ্রগতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি খুব শীঘ্রই শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে পূর্ববর্তী মন্তব্য
এর আগে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার খুবই কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি দাবি করেন, তেহরান সরকার তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ প্রায় সব শর্তেই রাজি হয়েছে।
ট্রাম্পের মতে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে অতীতেও ইরানের কাছ থেকে অনুরূপ দাবি করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও চলমান আলোচনা
ট্রাম্পের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইরান সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি। দেশটির কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে এখনো সংযত রয়েছেন।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে দুই সপ্তাহের জন্য কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি আগামী মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই বিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চূড়ান্ত সমঝোতা আশা করা হচ্ছে।
পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক প্রভাব
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়টি এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, তেহরান এই শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত হয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য চুক্তি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। গত কয়েক মাস ধরে ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলা চলছিল, যা এখন থেমে গেছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন দেখছে, এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির দিকে নিয়ে যাবে কিনা।



