ইরান যুদ্ধে অনিশ্চিত ফল, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের জনসমর্থন দ্রুত কমছে
ইরানে চলমান যুদ্ধ এখনো নিষ্পত্তিহীন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন দ্রুত কমছে বলে নতুন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের শুরুতে বলেছিলেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণ সমন্বয়ে’ পরিচালিত হচ্ছে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে, যা মার্কিন জনমত ও রাজনৈতিক সমর্থনে ইসরাইলের অবস্থানকে দুর্বল করে তুলছে।
সাম্প্রতিক জরিপে উদ্বেগজনক ফলাফল
সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ আমেরিকান ইসরাইলকে অপছন্দ করেন। ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে বিরূপ মনোভাব বেশি হলেও রিপাবলিকানদের মধ্যেও বিরোধিতা বাড়ছে—বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরাইলের প্রতি সমর্থন ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, যা দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি: অস্তিত্ব বনাম অপ্রয়োজনীয় সংঘাত
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলে এই যুদ্ধকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখা হলেও যুক্তরাষ্ট্রে অনেকেই এটিকে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত হিসেবে দেখছেন, যা দেশটির অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই পার্থক্য জনমতের বিভাজনকে আরও গভীর করেছে। এদিকে, ইসরাইলের প্রতি সমর্থন এখন মূলত নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর, যিনি নিজেও দেশটির ভেতরে বিতর্কিত অবস্থানে রয়েছেন। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ‘ইসরাইলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিবর্তন
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব ইসরাইলের প্রতি বর্তমান অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে। ডেমোক্র্যাট নেতারা ইতোমধ্যেই সমালোচনায় সরব, আর রিপাবলিকানদের তরুণ অংশও আগের তুলনায় বেশি সন্দিহান। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতো নেতারাও ইরান যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বলে জানা গেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে দুই দলের ভেতরেই মতপার্থক্য বাড়ছে। এই রাজনৈতিক বিভাজন ইসরাইলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
সামগ্রিক প্রভাব: কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর ঝুঁকি
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের সামরিক ফলাফল এখনো অনিশ্চিত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জনমত ও রাজনৈতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে ইসরাইলের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যদি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন আসে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইলকে এখনই তার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে মার্কিন সমর্থন হারানোর ঝুঁকি কমে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল



