ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইরান যদি কোনো চুক্তিতে সম্মত না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দেন, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও নৌ-অবরোধ

হেগসেথ উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে, কারণ ইরানের কার্যকর কোনো নৌবাহিনী অবশিষ্ট নেই বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, "যতদিন প্রয়োজন, ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ ততদিন জারি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।" এই প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে সহায়তার জন্য অন্য দেশগুলোকে স্বাগত জানাবে ওয়াশিংটন বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

চীনের ভূমিকা ও ইরানের নেতার অবস্থা

আলোচনায় হেগসেথ প্রকাশ করেছেন যে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে, তারা যুদ্ধবিরতির সময় ইরানে অস্ত্র পাঠাবে না, যা আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি, তিনি ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, খামেনি আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তিনি বেঁচে আছেন। এই তথ্য ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন জল্পনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাপ সৃষ্টির কৌশল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

তেহরানকে চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে প্রবেশকারী কিংবা সেখান থেকে ছেড়ে আসা সব ধরনের জাহাজের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করছে। হেগসেথ ইরানকে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ও শান্তিপূর্ণ সেতুবন্ধন বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমরা আশা করি তোমরা ইরানের জনগণের স্বার্থে সেটিই করবে।" তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তাহলে তাদের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত মার্কিন বোমা হামলার মুখোমুখি হবে, যা দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংসাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

এই হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার ঘটনাপ্রবাহ ইতিমধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিবৃতি ভবিষ্যত কূটনৈতিক আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।