৩৪ বছর পর ইসরায়েল-লেবানন শীর্ষ বৈঠক: ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন আশা
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতারা সরাসরি আলোচনায় বসবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল প্রথম এ খবরটি প্রকাশ করে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের পোস্টে স্বস্তির বার্তা
ট্রাম্প তার পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটু স্বস্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছি। প্রায় ৩৪ বছর পর এই দুই দেশের নেতারা কথা বলবেন।" এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, মার্কিন প্রশাসন অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চাইছে। তবে ট্রাম্প দুই দেশের কোন পর্যায়ের নেতারা এই আলোচনায় অংশ নেবেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি, যা একটি বড় ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে।
নেতাদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতাদের পরিচয় নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ যোগ দিতে পারেন। অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বা প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে লেবানন সম্ভবত যুদ্ধবিরতির শর্ত আরোপ করবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যুদ্ধবিরতি ও হিজবুল্লাহ ইস্যু
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইসরায়েলের সঙ্গে বৈঠকের আগে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিতে পারে, যা অঞ্চলের উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে। কিন্তু ইসরায়েল এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়নি, কারণ তারা হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করার লক্ষ্য অটলভাবে ধরে রেখেছে। এই অবস্থান বৈঠকের ফলাফলকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই আলোচনা যদি সফল হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। ৩৪ বছর পর দুই প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে, যদিও এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায় এই বৈঠকের দিকে উদ্বেগ ও আশার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।



