সুদানে গৃহযুদ্ধের তৃতীয় বছরে প্রতি মিনিটে তিন শিশুর জন্ম: সেভ দ্য চিলড্রেনের সতর্কতা
সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যকার গৃহযুদ্ধ তৃতীয় বছরে প্রবেশ করেছে। এই চরম সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দেশটিতে প্রতি মিনিটে অন্তত তিনটি শিশু এমন পরিবেশে জন্ম নিচ্ছে, যা ‘কোনও শিশুরই মোকাবিলা করা উচিত নয়’ বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ৫৬ লাখ শিশুর জন্ম
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সংস্থাটি জানায়, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত সুদানে প্রায় ৫৬ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। এমন এক দেশে এসব শিশু ভূমিষ্ঠ হচ্ছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ দিনে মাত্র একবেলা খেয়ে বেঁচে আছে এবং মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে।
সুদানে সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবদিলাদিফ বলেন, ‘এই শিশুরা উপচে পড়া ভিড়ের আশ্রয়শিবিরে, সরঞ্জামহীন বা ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অথবা তাদের পরিবার যখন প্রাণ বাঁচাতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটছে, এমন অবস্থায় জন্ম নিচ্ছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের মধ্যেও শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি জরুরি বিষয়।
গৃহযুদ্ধের পটভূমি ও ভয়াবহ পরিণতি
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে দ্বন্দ্ব পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়, যা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত কয়েক দশ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি।
এই সংকটের প্রভাব শিশুদের ওপর বিশেষভাবে পড়ছে, কারণ:
- স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে
- খাদ্য ও পুষ্টির অভাব তীব্র হচ্ছে
- বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ নেই
সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনটি সুদানের চলমান সংঘাতের মানবিক দিকটি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটি জরুরি সাহায্য ও শান্তি প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে এই শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা যায়।



