লেবানন ইস্যুতে ট্রাম্পের উল্টো দাবি: যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিভ্রান্তি ও সংঘাতের ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি আলোচনায় এসেছে, কিন্তু লেবাননকে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের মতবিরোধ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে একটি উল্টো দাবি করেছেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত ও লেবাননের অবস্থান
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে বলা হয়েছিল যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। তবে ইসরাইল এই শর্ত মানছে না এবং লেবাননের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে অন্তত ২৬৪ জন মানুষ হত্যা করেছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে ওই চুক্তিতে 'লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়'। ইরান এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে, কিন্তু ট্রাম্প ইসরাইলের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়।
ট্রাম্পের বক্তব্য ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণমাধ্যমকে বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধ একটি 'আলাদা সংঘর্ষ', এবং হিজবুল্লাহর কারণে লেবানন এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে এই সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলিন ল্যাভেটও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেন, এই যুদ্ধবিরতি পুরো অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য—বিশেষভাবে লেবাননসহ। এই বক্তব্য ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
ইরানের সতর্কবার্তা ও বিশ্লেষকদের অভিযোগ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে: হয় যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া, নয়তো ইসরাইলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি নিয়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে লেবাননের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। এই মতবিরোধ নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকরা অভিযোগ করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে ব্যবহার করে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং চুক্তি অমান্য করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ফেলছে।



