ইসরায়েল ও লেবানন তাদের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নবায়ন করতে এবং লেবাননের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি পরীক্ষামূলক ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ তৈরি করতে সম্মত হয়েছে। এসব অঞ্চলে হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ইসরায়েল ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।
চতুর্থ দফা আলোচনা ও যৌথ বিবৃতি
গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চতুর্থ দফা আলোচনা শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে উভয় পক্ষ জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সম্পূর্ণভাবে হামলা বন্ধ না হয় এবং লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সংগঠনের সব সদস্য সরে না যায়। তবে এই নিরাপত্তা অঞ্চলগুলো কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা হবে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট না হলেও, চুক্তি অনুযায়ী লেবাননের সেনাবাহিনী ওই এলাকাগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে।
শান্তি চুক্তির দিকে অগ্রগতি
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপগুলো একটি ব্যাপকভিত্তিক শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। উভয় দেশই পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেবল দুটি সার্বভৌম সরকারই নির্ধারণ করবে। লেবাননের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করার যেকোনও রাষ্ট্রীয় বা অরাষ্ট্রীয় শক্তির যেকোনও ধরনের প্রচেষ্টাকে তারা প্রত্যাখ্যান করছে।
ইরানের ভূমিকা ও হিজবুল্লাহর অবস্থান
বিবৃতির শেষ অংশটি মূলত ইরানকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে। ইরান হিজবুল্লাহকে সমর্থন করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি সাময়িক চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের জন্য জোর দিয়ে আসছে, যাতে ইরানের সাথে মার্কিন সংঘাতের অবসান ঘটে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং ১৯৪৮ সাল থেকেই দেশ দুটি যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রিকরণ চায়। লেবানন সরকারও এই লক্ষ্যটি সমর্থন করলেও, ইরান-সমর্থিত এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।



