ট্রাম্পের ইরান সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য, ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি ও একটি সম্ভাব্য চুক্তির দিকে দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রয়টার্সকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে তাদের সম্পর্ক ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং একটি চুক্তি খুব দ্রুত হতে পারে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হতে পারে এবং এ বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনার অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ধাপে ধাপে পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনার অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করা হবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হতে পারে। তিনি ‘পারমাণবিক ধুলো’ বলতে গত বছরের বোমা হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় অবশিষ্ট পদার্থকে বোঝাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই এই সংঘাতের মূল লক্ষ্য।
ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া
তবে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের পর ইরান কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে স্থানান্তর করা হবে না। এ ধরনের কোনো পরিকল্পনাও নেই। ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
চুক্তি ও নৌ অবরোধের বিষয়
ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ বজায় রাখা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি চুক্তিটা খুব দ্রুত হবে। ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন খুবই ভালো।’ আরও আলোচনার দরকার আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং জানান এটি ‘সম্ভবত এই সপ্তাহের শেষেই’ হতে পারে। চুক্তি হলে তিনি ইসলামাবাদ ‘যেতে পারেন’ বলেও ইঙ্গিত দেন।
অর্থ লেনদেনের বিষয়ে অস্বীকার
ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে বিপুল অর্থ প্রদানের বিষয়ে প্রকাশিত খবরও ট্রাম্প অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো অর্থ লেনদেন হচ্ছে না।’ এই মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কঠোর অবস্থান বজায় রয়েছে।



