মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী উৎসবে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর কুশপুতুল পোড়ানো
মেক্সিকো উৎসবে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর কুশপুতুল পোড়ানো

মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী উৎসবে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর কুশপুতুল পোড়ানো

মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী 'জুডাস পোড়ানো' উৎসবে এবার বিশেষ চরিত্র হিসেবে স্থান পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত শনিবার (৪ এপ্রিল) এই উৎসবে একটি বিশেষভাবে নির্মিত মূর্তিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর দুটি মাথা একই শরীরে সংযুক্ত করে আগুনে পোড়ানো হয়।

উৎসবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

এই উৎসবের ইতিহাস কয়েক দশক পুরনো। এটি মূলত যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে জুডাস ইসকারিয়টের বিশ্বাসঘাতকতার স্মরণে পালন করা হয়। খ্রিষ্টীয় ধর্মানুসারে, জুডাস মাত্র ত্রিশটি রুপার বিনিময়ে যিশুকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এরপরই গেথসেমানে বাগানে যিশুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। প্রতি বছর এই উৎসবে শয়তানের বিশাল কার্ডবোর্ডের মূর্তি আগুনে পোড়ানো হয়, যা পৃথিবীর সব মন্দকে পুড়িয়ে ফেলার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রতীকী কর্মের রাজনৈতিক তাৎপর্য

এই উৎসবে কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সমসাময়িক বিশ্বের নেতাদের সম্পর্কে তাদের মনোভাব প্রকাশ করেন। এবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে বেছে নেওয়া স্পষ্টতই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং মার্কিন নীতির প্রতি মেক্সিকোর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রতীকী কর্মটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মেক্সিকোর জনগণের অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এছাড়া এবারের উৎসবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবামের মূর্তিও পোড়ানো হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিও ইঙ্গিতবহ। ঐতিহ্যগতভাবে এই উৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে বিকশিত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উৎসবের বর্তমান রূপ

জুডাস পোড়ানো উৎসব মেক্সিকোর সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এটি শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত প্রকাশের একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। এবারের ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ এটি আন্তর্জাতিক নেতাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেছে।

উৎসবের আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই প্রতীকী কর্মের মাধ্যমে তারা বিশ্ব শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য তাদের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে চেয়েছেন। মেক্সিকো সিটির বাসিন্দারা এই অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, যা স্থানীয় সংস্কৃতির গভীর শিকড়কেও প্রতিফলিত করে।