দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে বিদ্রোহের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সিউলে অবস্থিত আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালে ইউনের সামরিক আইন জারির চেষ্টাকে আদালত 'বিদ্রোহ' হিসেবে চিহ্নিত করে এই কঠোর সাজা প্রদান করেছেন।

সামরিক আইন জারির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ইউন সুক-ইওল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আকস্মিকভাবে সামরিক আইন জারি করেছিলেন। তিনি তখন দাবি করেছিলেন যে 'রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি' নির্মূল করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তবে, এই সামরিক আইন জারির চেষ্টা মাত্র ছয় ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। এশিয়ায় গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নাড়িয়ে দেয়।

আদালতের রায় ও যুক্তি

সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউনকে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। আদালতের মতে, ইউন ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে (পার্লামেন্ট) থাকা নিজের বিপুলসংখ্যক সমালোচককে 'অকেজো' করে দেওয়ার অভিপ্রায়ে এই পরিকল্পনা করেছিলেন। বিচারক জি গুই-ইয়ন বলেন, সামরিক আইন জারির ঘোষণার ফলে সমাজকে বড় ধরনের মূল্য চুকাতে হয়েছে এবং ইউনের মধ্যে এই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাওয়া কঠিন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৌঁসুলিরা বিদ্রোহের অভিযোগে ইউনের কঠোরতম সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে অনানুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রয়েছে এবং দেশটিতে ১৯৯৭ সালে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক পটভূমি ও প্রভাব

সামরিক আইন জারির সেই সংকটকালে প্রেসিডেন্ট ইউন খুব অজনপ্রিয় ছিলেন। পার্লামেন্টে তাঁর দল ছিল কোণঠাসা, এবং পার্লামেন্টের ভোটে তাঁর প্রশাসনের বাজেট আটকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অভিশংসন করা হয়েছিল। ইউন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সহায়তায় পার্লামেন্ট ভবন দখল এবং সমালোচকদের গ্রেপ্তার করতে সেনা মোতায়েন করেছিলেন।

বিচারক উল্লেখ করেছেন যে, বিরোধীরা 'প্রেসিডেন্টকে সফলভাবে অকার্যকর করে দিতে পারে', এই ধারণায় ইউন 'আচ্ছন্ন' হয়ে পড়েছিলেন। এই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে এবং দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।